দৈনিক প্র থম আ লো-এর সম্পাদক মতিউর রহমানসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্থানীয় এনজিও পিপলস অ্যাসিস্ট্যান্ট ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা)-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হুমায়ুন কবির এ মামলা করেন।
আদালতের বিচারক মোছা. তানজিনা তানিন মামলাটি আমলে নিয়ে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ-এর ডিবি ইউনিটকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অন্য দুই আসামি হলেন প্র থম আ লোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রিয়াদুল করিম এবং হবিগঞ্জ প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান নিয়ন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত শেষে পাশা এনজিওকে ১০ হাজার ৫৫৯ জন নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন দেয়। কিন্তু ৫ ফেব্রুয়ারি প্র থম আ লোতে “এক ব্যক্তিনির্ভর ‘পাশা’ দিচ্ছে ১০ হাজার নির্বাচন পর্যবেক্ষক” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, ওই প্রতিবেদনের কারণে দেশি-বিদেশি দাতা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট মহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং সংস্থাটির সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন পর্যবেক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করায় আর্থিক ক্ষতিও হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
মামলায় আরও বলা হয়, প্রকাশিত সংবাদ ও সম্পাদকীয়তে সংস্থাটিকে ‘নামসর্বস্ব’, ‘নিজস্ব প্রকল্পবিহীন’ এবং ‘টাকার বিনিময়ে পর্যবেক্ষক কার্ড বিক্রির অভিযোগ রয়েছে’ বলে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এছাড়া সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের ছবি সম্পাদনা করে প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাদী অভিযোগ করেন, এসব সংবাদের কারণে সংস্থাটির প্রায় ১০০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে দাবি করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।
সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হন বাদী। মামলায় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ও বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিকে সাক্ষী করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহীদুল ইসলাম মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে ডিবি পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।
কুশল/সাএ