হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও উর্ধ্বমুখী হয়েছে। শুক্রবার এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পরপরই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ও যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই—উভয় তেলের দামেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
বাজার পরিস্থিতি
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্যমতে, শুক্রবার লেনদেনের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ১.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১.৬০ ডলারে পৌঁছায়। দিনের শুরুতে এই বৃদ্ধির হার ২ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেও পরবর্তীতে তা কিছুটা স্থিতিশীল হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫.৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ
উত্তেজনার সূত্রপাত নিয়ে দুই দেশই একে অপরকে দায়ী করছে:
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি: মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযোগ, তাদের একটি যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগর ত্যাগ করার সময় ইরান ‘উসকানিমূলক’ হামলা চালায়। এই হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করা হয়েছে বলে ওয়াশিংটন দাবি করেছে। মার্কিন বাহিনী জানায়, তারা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং তাদের কোনো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
ইরানের দাবি: অন্যদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রই আগে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে তাদের জাহাজ ও একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, পাল্টা জবাবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ‘গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতি’ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
অনিশ্চয়তায় যুদ্ধবিরতি
এই ঘটনার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছিলেন।
বর্তমান পরিস্থিতিকে ট্রাম্প একটি ‘ছোটখাটো আঘাত’ হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেছেন যে, যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান সমঝোতায় না এলে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
বৈশ্বিক প্রভাব
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামান্য উত্তেজনাও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।