ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ ইউনিট দাবি করেছে, বৃহৎ পরিসরের যৌথ সামরিক অভিযানে তারা মার্কিন নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। তাদের মুহুর্মুহু হামলার মুখে তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় পরিচালিত অভিযানের বিষয়ে এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নৌ কমান্ডার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দুটি “উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের” জবাবে এই অভিযান চালানো হয়।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে জাস্ক বন্দরের কাছে একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়। এরপর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারগুলো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি-এর দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
এর জবাবে ইরানি বাহিনী একটি বিস্তৃত ও সমন্বিত সামরিক অভিযান পরিচালনা করে বলে দাবি করা হয়। এতে জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে, যেগুলো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ওয়ারহেডে সজ্জিত ছিল এবং সরাসরি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়।
আইআরজিসি কমান্ডারের দাবি অনুযায়ী, গোয়েন্দা নজরদারিতে দেখা গেছে যে মার্কিন নৌবাহিনীর সরঞ্জামগুলো উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের এই তীব্র ও নিখুঁত হামলার পর তিনটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ দ্রুত হরমুজ প্রণালি থেকে সরে যায়।
এদিকে আলাদা এক বিবৃতিতে দেশটির খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি বলেন, কৌশলগত এই জলপথে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সামরিক আগ্রাসনের জবাবে ইরানি বাহিনী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী ও আইনবহির্ভূত সামরিক বাহিনী একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বুঝতে হবে অতীতের মতোই যে কোনো আগ্রাসন বা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কঠোর ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দ্বিধা করবে না।
ইরানপন্থি সূত্রগুলোর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র জাহাজগুলোর জন্য কার্যত বন্ধ রয়েছে।
সূত্র: প্রেস টিভি
কুশল/সাএ