মো. আসাদুজ্জামান ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে ইয়ুথনেট গ্লোবাল এর আয়োজনে বরগুনায় জলবায়ু ধর্মঘট ও পদযাত্রা করেছেন শতাধিক তরুণ জলবায়ু কর্মী। শুক্রবার সকাল ১০টায় প্রেসক্লাব এর সামনে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। কর্মসূচির প্রতিপাদ্য ছিল ন্যায্যতা ও নবায়নযোগ্য শক্তির পথে জীবাশ্ম জ্বালানি মুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ি একসাথে। সমাবেশে রঙিন ব্যানার ও পোস্টার হাতে তরুণদের স্লোগানে মুখর ছিল পুরো এলাকা। “ভুয়া সমাধান নয়, নবায়নযোগ্য শক্তি চাই”, “জীবাশ্ম মুক্ত বাংলাদেশ চাই”, “সৌর শক্তি বাড়াও, দূষণ কমাও”, “আমার ভবিষ্যৎ, আমার অধিকার” ইত্যাদি স্লোগান দেন তারা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জনাব জাকির হোসেন মিরাজ, সাংবাদিক মালেক মিঠু, পরিবেশ বন্ধু ও চিত্র সাংবাদিক আরিফুর রহমান, সাংবাদিক মোঃ আসাদুজ্জামান, আতিকুর রহমান সাবু সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। উপস্থিত বক্তারা বলেন- জ্বালানি নীতিতে নবায়নযোগ্য শক্তিকে অগ্রাধিকার না দিলে দেশের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। তারা জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও অর্থায়ন বন্ধের পাশাপাশি জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা তারা জ্বালানি সার্বভৌমত্বের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তরুণ জলবায়ু কর্মীরা। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। তাদের দাবি, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা এখনো বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, ডিজেল ও কয়লার দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে লোডশেডিং বেড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে শিল্প, কৃষি ও পরিবহন খাতে। এই প্রেক্ষাপটে বক্তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে একমাত্র টেকসই সমাধান হিসেবে তুলে ধরেন। তারা বলেন, সৌর, বায়ু ও বায়োগ্যাসের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও এ খাতে দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত বিনিয়োগ হয়নি। তাদের মতে, ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হলে বছরে প্রায় ১ দশমিক ৫ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় করা সম্ভব। ইয়ুথনেট গ্লোবাল-বরগুনা জেলার জেলা সমন্বয়কারী বনি আমিন বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে উন্নত দেশগুলোকে বাংলাদেশকে অর্থ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ‘জলবায়ু ঋণ’ মওকুফের দাবি জানান তিনি। ইয়ুথনেট গ্লোবালের বিভাগীয় সমন্বয়কারী সাজিদ মাহমুদ বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলসহ পুরো দেশ আজ ঝুঁকির মুখে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ ও শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় এখনই জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য শক্তিতে ন্যায্য ও দ্রুত রূপান্তর নিশ্চিত করা জরুরি। আমাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় বাস্তবসম্মত ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের আর কোনো বিকল্প নেই।” ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান বলেন, “সরকারের ঘোষিত ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ লক্ষ্যমাত্রা সময়োপযোগী হলেও এর বাস্তবায়নে স্পষ্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রোডম্যাপ জরুরি।” তিনি বলেন, আমদানি নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়ছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নেই। বক্তারা রুফটপ সোলার সম্প্রসারণ, ব্যাটারি স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক যানবাহন, স্মার্ট গ্রিড, সোলার সেচে প্রণোদনা এবং নবায়নযোগ্য প্রকল্পে সরকারি জমি ব্যবহারে পিপিপি মডেল চালুর আহ্বান জানান। তরুণরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ ২০১৮ সালে স্কুলের সামনে অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’ আন্দোলনের সূচনা করেন। তার উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে তরুণদের নেতৃত্বে জলবায়ু আন্দোলনে রূপ নেয়। সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ইয়ুথনেট গ্লোবাল ও ফ্রাইডেস ফর ফিউচার বাংলাদেশ এই কর্মসূচির আয়োজন করে। ইয়ুথনেট গ্লোবাল এর উদ্যোগে একই দিনে দেশের ৫০টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি পালিত হয় বলে আয়োজকেরা জানান।