জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে অভিযোগ করেছেন, একসময় তাকে জামায়াতের ছাত্রী সংস্থার ‘প্রোডাক্ট’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।
শুক্রবার (৮ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে তিনি বলেন, ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলনের সময় একটি স্লোগানের বিরোধিতা করায় তাকে নানা ধরনের আক্রমণ ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল।
স্ট্যাটাসে তাসনিম জারা লেখেন, সে সময় তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন— “একটা সভ্য সমাজে ‘একটা একটা শিবির ধর, ধরে ধরে জবাই কর’ ধরনের স্লোগান গ্রহণযোগ্য নয়।” এর পরই তাকে জামায়াতপন্থি আখ্যা দেওয়া হয় এবং তার ব্যক্তিগত তথ্য খোঁজার চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সেই সময় তাকে “লেঞ্জা ইজ ভেরি ডিফিকাল্ট টু হাইড” মন্তব্যের মাধ্যমে আক্রমণ করা হয়েছিল এবং কেউ কেউ তাকে ‘ক্রসফায়ারে’ দেওয়ার কথাও বলেছিলেন।
সম্প্রতি আবারও একই ধরনের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, এবার তাকে “শাহবাগী”, “বাম”, “ইসলামবিদ্বেষী” কিংবা “বিদেশি এজেন্ট” হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, এনসিপিতে যোগদানের সময় একটি “মধ্যপন্থার রাজনৈতিক শক্তি” গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, যেখানে বিভিন্ন মত ও আদর্শের মানুষ একসঙ্গে কাজ করবেন। কিন্তু এখন ভিন্নমত সহ্য না করে ট্যাগিং ও অপপ্রচারের সংস্কৃতি ফিরে আসছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, “দ্বিমত মানেই দেশদ্রোহ, সমালোচনা মানেই ষড়যন্ত্র— এই সংস্কৃতি ফ্যাসিবাদের পরিচিত চেহারা ছিল। যদি নতুন মোড়কে একই আচরণ ফিরে আসে, তাহলে অভ্যুত্থানের সম্ভাবনাও নষ্ট হবে।”
সবশেষে তাসনিম জারা লেখেন, “সভ্য সমাজে কাউকে জবাই করার ডাক দেওয়া যায় না, কাউকে বিনা বিচারে আটকে রাখা যায় না এবং দ্বিমতকে দেশদ্রোহ বলে চালিয়ে দেওয়া যায় না। আমি এই বিশ্বাস থেকে সরে আসার কোনো কারণ দেখি না।”