চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় থানা পুলিশের অভিযানে অপহৃত মিনিবাসের চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে অপহরণ ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকেও গ্রেফতার করা হয়।
আজ শনিবার (০৯ মে) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আনোয়ারা থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মো. জুয়েল মিয়া। এরআগে শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আনোয়ারা সদরের মো. জাহেদ (২৩), বরুমছড়ার মো. ইমন (১৯), বারখাইন তৈলারদ্বীপের নুরুল কবির (৫৫) ও নুরুল মোমিন আরাফাত (২৮)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কর্ণফুলী এলাকার বাসিন্দা শফিউল আলমের মালিকানাধীন একটি “হিউম্যান হলার” মিনিবাস চট্টগ্রাম নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে আনোয়ারার চাতুরী চৌমুহনীতে আসে। এসময় কয়েকজন যুবক বরুমছড়া এলাকায় জরুরি রিজার্ভ ভাড়ার কথা বলে গাড়িটি ভাড়া নেয়। গাড়িতে চালক হিসেবে ছিলেন মো. শহিদুল ইসলাম এবং সঙ্গে ছিলেন দুই হেলপার। বরুমছড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর সংঘবদ্ধ চক্রটি দেশীয় অস্ত্রের মুখে চালক ও হেলপারদের জিম্মি করে। পরে তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
একইসঙ্গে মিনিবাসটি একটি নির্জন স্থানে নিয়ে আটক রাখা হয়। পরে চক্রের সদস্যরা গাড়ির মালিক শফিউল আলমের মোবাইলে ফোন করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং সরকারহাট গরুর বাজার এলাকায় টাকা নিয়ে যেতে বলে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের অভিযানে উত্তর বরুমছড়া জামিয়া নুরানী মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রথমে এজাহারভুক্ত দুই আসামি মো. জাহেদ ও মো. ইমন গ্রেফতার করে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে বরুমছড়ার মোহাম্মদ আলীর টেক এলাকা থেকে অপহৃত মিনিবাসসহ চালক ও হেলপারদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার গভীর রাতে আবারও অভিযান চালিয়ে তৈলারদ্বীপ এলাকা থেকে চক্রের আরও দুই সদস্য নুরুল কবির ও নুরুল মোমিন আরাফাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ঘটনার বিষয়ে এসআই জুয়েল মিয়া জানায়, গ্রেফতার হওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, অস্ত্র ও সহিংসতার একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।