বরিশালের বাবুগঞ্জে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন-এর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) দুপুর ১টায় বাবুগঞ্জ উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে উপজেলা চত্বরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এর আগে সকাল ১০টায় জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির এক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল হক নীলু। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরো সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা লুৎফুল্লাহ। সভা পরিচালনা করেন বরিশাল জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মো. টিপু সুলতান।
সভায় বক্তব্য দেন জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা টি. এম. শাহজাহান তালুকদার, জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি ও জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক ফিরোজ, উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি অধ্যাপক গোলাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহিন হোসেন, বরিশাল জেলা যুবমৈত্রীর সভাপতি জামাল উদ্দিন, বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবমৈত্রীর সভাপতি হাসানুর রহমান পান্নু, উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান সবুজ, রবিন বৈদ্য, রশিদ হাওলাদার, খলিলুর রহমান খলিল, আলাউদ্দীন খান, উপজেলা যুবমৈত্রী নেতা হানিফ হাওলাদার, সোহেল রানা এবং সাবেক জেলা ছাত্রমৈত্রী নেতা শামিল শাহরোখ তমাল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, রাশেদ খান মেনন ১৯৬২ সালের ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সামনের সারির যোদ্ধা ছিলেন। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি বলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে ৪৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল রাজাকারদের বিচারের জন্য গঠন করা হলেও আজ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক রাশেদ খান মেননকে সেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। তাকে পেছনে হাত বেঁধে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। অবিলম্বে রাশেদ খান মেননের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান তিনি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, অনেক বাম দল ওয়ার্কার্স পার্টিকে স্বৈরাচারের দোসর বলে আখ্যায়িত করেছে। অথচ তারাই দেশে মৌলবাদ ও অপসংস্কৃতির প্রসারে ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নেতারা বলেন, দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা অবিলম্বে এসব মামলা প্রত্যাহার করে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
তারা আরও বলেন, ভিন্নমত ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে দমিয়ে রাখতেই এ ধরনের মামলা দায়ের করা হচ্ছে। রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন নেতারা।
সভা শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় নেতাকর্মীরা “রাশেদ খান মেননের মুক্তি চাই”, “মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার কর”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না করা হলে আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
কুশল/সাএ