কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করে এক অভিনব পদ্ধতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার যুবক ও উঠতি বয়সি তরুণদের মাঝে মাদক বিক্রি করে আসছিল এক দম্পতি। অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন তারা। এই কুখ্যাত মাদক বিক্রেতা দম্পতিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করায় এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার পাইকের ছড়া ইউনিয়নের রেললাইন বস্তিতে দীর্ঘদিন ধরে অভিনব পদ্ধতিতে মাদক বিক্রি হয়ে আসছিল। বন্ধ মুদি দোকানে গিয়ে সাংকেতিক চিহ্নের মাধ্যমে দোকানের ঝাঁপ-এ সুনির্দিষ্ট সংখ্যক টোকা দিয়ে শব্দ করলে ভেতর থেকে জানালার ফুটো দিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করা হতো। বাইরে থেকে দেখে বোঝার কোনো উপায় ছিল না যে বন্ধ দোকানের অভ্যন্তরে মাদক বিক্রি হয়। প্রতিদিন সন্ধ্যা হলে বিভিন্ন এলাকা থেকে উঠতি বয়সি যুবক ও তরুণরা ওই বন্ধ দোকানের পাশে এসে জড়ো হতো। এক গ্রুপ চলে গেলে অপর গ্রুপ আসতো। পরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের একটি দল দীর্ঘদিন অনুসন্ধানের পর শনিবার (৯ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই দোকানে অভিযান চালিয়ে মাদকসহ স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো পাইকেরছড়া (রেললাইন) গ্রামের মৃত আব্দুল শেখের ছেলে মকবুল হোসেন মন্ডল ওরফে মন্ডল শেখ (৪৯) ও তার স্ত্রী হাসিনা বেগম (৪০)। এসময় ওই বন্ধ মুদি দোকানে লুকিয়ে রাখা ১১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির ৮ হাজার ৮৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে রবিবার (১০ মে) সকালে কুড়িগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলা নং ১৫। ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।