নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দুর্বৃত্তের গুলিতে মাইনুল ইসলাম মাহিন (২৫) নামে এক জামায়াত কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
রোববার (১০ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের আইয়ুবপুর গ্রামের ছাদু নেতার বাড়ি সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ মাহিন ওই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে জামায়াতের কর্মী হিসেবে পরিচিত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাহিন বাড়ির সামনে বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে মুখে কাপড়ে বেঁধে ৪-৫ জন সেখানে এসে মাহিনের মুখে টর্চলাইট জ্বালিয়ে গুলি ছোড়ে। প্রথম গুলি তার পায়ে লাগে। পরে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে আরও একটি গুলি করা হয়। এরপর হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শাইখুল আরেফিন শিহাব জানান, আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন সিএনজিতে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে দ্রুত চলে যায়। তাদের মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল।
বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবদুর রহিম জানান, অজ্ঞাত কয়েকজন সিএনজি অটোরিকশাযোগে এসে আমাদের কর্মী মাহিনকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা হতে পারে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. হাসান আল মুলক জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান জানান, আমানউল্লাহপুরে একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কারা গুলি করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সালাউদ্দিন/সাএ