আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের খামারগুলোর ব্যতিক্রমী প্রচারণায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে খামারিরা এবার তাদের পালিত পশুর নাম রেখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, নেতানিয়াহু কিংবা নরেন্দ্র মোদির মতো বিশ্ব নেতাদের নামে।
আর এ চটকদার নামকরণের কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতারাতি ভাইরাল হয়েছে পশুগুলো। ফলে, ঈদের অনেক আগেই বন্দরের প্রায় অর্ধশত খামারের অধিকাংশ পশু ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।
বাড়িতে পশু রেখে লালন-পালন করা সম্ভব না হওয়ায় অনেকে পশু কিনে খামারেই রেখে যাচ্ছেন বলে খামারিরা জানান। তাই ডোনাল্ড ট্র্যাম্প, নেতানিয়াহু, নরেন্দ্র মোদিসহ সেলিব্রেটিদের নামে নামকরণকৃত পশুগুলো খামারেই থাকছে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, খামারগুলোতে এই ‘সেলিব্রিটি’ পশুদের দেখতে এবং কিনতে প্রতিদিন উৎসুক জনতা ও ক্রেতাদের ভিড় লেগে আছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে খামারিদের। তবে, এ প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন খোদ খামারিরাই। ভাইরাল হওয়ার পর ঈদের বেশ কয়েকদিন বাকি থাকতেই খামারের সব গরু, মহিষ, ছাগল ও গাড়ল ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার ‘এসএস ক্যাটেল’ নামক একটি খামারে লালন-পালন করা বিশালাকৃতির এলবিনো জাতের একটি মহিষের নাম রাখা হয়েছিল ‘নেতানিয়াহু’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গরুটি ভাইরাল হওয়ার পর সেটিকে এক নজর দেখতে খামারে ভিড় জমায় হাজারো মানুষ। শেষ পর্যন্ত গত শুক্রবার ঢাকার এক ব্যবসায়ী সাড়ে ৬ লাখ টাকা দিয়ে ‘নেতানিয়াহু’কে কিনে নেন।
অন্যদিকে, পাইকপাড়া এলাকার ‘রাবেয়া এগ্রো ফার্মের আকর্ষণ ছিল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের আরেকটি গোলাপি রংয়ের মহিষ। সেটি খামারে আসা ক্রেতাদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়। অবশেষে সাড়ে ৩ লাখ টাকায় ঢাকার আরেক ব্যবসায়ী ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে কিনে নিয়েছেন।
ব্যতিক্রমী এ বিপণন কৌশল নিয়ে খামারিরা জানান, প্রতি বছরই কুরবানির বাজারে ক্রেতাদের বাড়তি আকর্ষণ থাকে বড় এবং ভিন্নধর্মী পশুর প্রতি। গত বছর হলিউড, বলিউড ও ঢালিউডের নায়কদের নামে পশুগুলোর নামকরণ করায় বিক্রি খুব ভালো হয়েছে। এবার বিশ্ব নেতাদের নামে নামকরণ করায় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়ার কারণে দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা এসে খামার থেকেই পশু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ঈদের আগেভাগে খামারের সব পশু ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে খুশি খামারি ও কর্মচারীরা।
বন্দরের দাসেরগাঁ এলাকার এস এস ক্যাটেল ফার্মের ম্যানেজার মেহেদী হাসান জানান, তার খামারে গরু, মহিষ, ছাগল ও গাড়ল মিলিয়ে প্রায় আড়াইশ পশু কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে খামারের প্রায় ৯০ শতাংশ পশু। অনেকের বাড়িতে পশু রাখার জায়গা না থাকায় তারা টাকা পরিশোধ করে খামারেই পশু রেখে গেছেন। ঈদের আগেরদিন নিয়ে যাবেন।
বন্দর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. একেএম আহসান উল্লাহ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঠিক ব্যবহার এবং অভিনব প্রচারণার কারণে খামারিরা এবার হাটে যাওয়ার ঝামেলা ছাড়াই সরাসরি খামার থেকে ভালো মূল্যে পশু বিক্রি করতে পারছেন, যা স্থানীয় ডেইরি খাতের জন্য একটি ইতিবাচক দিক।
সালাউদ্দিন/সাএ