কঠোর পরিশ্রম আর চড়া বিনিয়োগের পরও তামাকের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে চরম ক্ষোভ ও লোকসানের মুখে পড়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুরের চাষিরা। তামাক কোম্পানীগুলোর সিন্ডিকেট এবং বাজারে সঠিক দাম না পেয়ে এবার মাঠের তামাক ঘরে না তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ফসলের মাঠেই উৎপাদিত শুকনো তামাকে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন কয়েক শত কৃষক। একই সাথে আর কখনোই এই ক্ষতিকর ও অলাভজনক তামাক চাষ করবেন না বলে সমবেতভাবে কান ধরে তওবা করেছেন তারা।
স্থানীয় চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কোম্পানীগুলোর নানা প্রলোভনে পড়ে এবং অধিক লাভের আশায় বুক বেঁধে চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়ার মিরপুর অঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠে তামাকের আবাদ করেছিলেন তারা। কিন্তু এখন তামাক বিক্রির চূড়ান্ত সময়ে এসে দেখা যাচ্ছে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাজারে তামাকের ন্যায্য দাম নেই, উল্টো সিন্ডিকেটের কারণে উৎপাদন খরচ তোলাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, তামাক কোম্পানীগুলো গ্রেড নির্ধারণের নামে কৃষকদের ঠকাচ্ছে এবং ইচ্ছেমতো কম দামে তামাক কিনছে। সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি এবং জ্বালানির চড়া দাম দিয়ে তামাক উৎপাদন করে এখন ঋণের বোঝা মাথায় চেপেছে সাধারণ চাষিদের।
এদিন মিরপুরের একটি মাঠে ক্ষুব্ধ কৃষকরা একত্রিত হয়ে জড়ো হন। সেখানে তারা তামাক চাষের ওপর তীব্র ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে উৎপাদিত তামাকের স্তূপে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুন জ্বলন্ত অবস্থায় কৃষকরা সমবেত কণ্ঠে কান ধরে প্রতিজ্ঞা করেন— “কষ্টের ফসলের দাম না দিয়ে যারা আমাদের পথে বসায়, সেই তামাক চাষ আর করব না। কান ধরে তওবা করলাম, আর নয় তামাক চাষ।”
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাত-দিন এক করে তামাকের পেছনে খাটলাম। বিষাক্ত ধোঁয়ায় শরীর শেষ করলাম। এখন কোম্পানীগুলো সিন্ডিকেট করে দাম দিচ্ছে না। আমাদের খরচের টাকাই উঠছে না। এমন তামাক চাষ করার চেয়ে না করা অনেক ভালো। এবার তামাকে আগুন দিয়ে তওবা করলাম, আর কোনোদিন এই বিষের চাষ করব না।”
চাষিরা জানান, তামাক চাষে যে পরিমাণ চড়া খরচ ও খাটুনি হয়, সেই তুলনায় অন্যান্য রবিশস্য বা সবজি চাষ অনেক বেশি নিরাপদ ও লাভজনক। তামাক বর্জন করে তারা এখন থেকে ধান, ভুট্টা, সরিষা ও শাকসবজি চাষের দিকে মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, তামাক কোম্পানীগুলোর একচেটিয়া সিন্ডিকেটের কারণেই কৃষকরা আজ বাধ্য হয়ে এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃষকদের এই লোকসান থেকে বাঁচাতে এবং তামাকের বিকল্প খাদ্যশস্য চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সরকারের কৃষি বিভাগকে দ্রুত বীজ, সার ও কারিগরি সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আমার বাঙলা/আরএ