‘জগতের সকল সৃষ্টির মাঝে মানুষ ‘আশরাফুল মাখলুখাত’। সেই সৃষ্টির সেরা জীবের মহৎ কর্ম স্বেচ্ছায় রক্তদান। এ উদ্যোগে মুমূর্ষু রোগীদের রক্তের চাহিদা পূরণ করা যায়-রক্ষা হয় জীবন। জগতের অন্য কোন প্রাণীর রক্ত দ্বিতীয় প্রাণীর জীবনরক্ষায় কাজে আসে না। খোদা মানুষকে দেয়া তার লাল ভালোবাসায় (রক্তে) অন্যের জীবন বাঁচিয়ে বন্ধন সৃষ্টির সুযোগ করে দিয়েছেন।
একজন সুস্থ মানুষ প্রতি ৪ মাস অন্তর নিয়মিত রক্তদান করতে পারেন। দানে রক্ত কমে না, বরং পরিশুদ্ধ হয়। পর্যটন সেবায় শ্রমের পাশাপাশি জীবন রক্ষায় স্বেচ্ছায় রক্তদানে উদ্বুদ্ধ হয় ওশান প্যারাডাইসের কর্মীরা। এ কার্যক্রম আমরা অব্যহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
কক্সবাজারের তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসে কর্মীদের স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীর উদ্বোধনীতে হোটেলের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু এসব কথা বলেন।
পর্যটন শিল্পের বিকাশে পথচলার একযুগ পার হওয়া এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার নিরিখে মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে হোটেলের ক্যাপ্টেন কক্স বলরুমে ২৫০ শয্যা কক্সবাজার সদর হাসপাতালের নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের সহযোগিতায় ওশান প্যারাডাইসের মানবসম্পদ বিভাগ রক্তদান ও গ্রুপিং কার্যক্রমের আয়োজন করে।
বেলা ১২টা হতে শুরু হওয়া কার্যক্রমে হোটেলের শতাধিক কর্মজীবীর ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় করে দেয়া হয়। এসময় ১২ জনের রক্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। বাকিদের তালিকা হাসপাতালের রক্ত সঞ্চালন বিভাগে জমা রাখা হয়। যখন কোন রোগীর রক্ত প্রয়োজন হবে তখনই গ্রুপ অনুসারে খবর দেয়া হলে হোটেলের সেই কর্মজীবী হাসপাতালে গিয়ে তাৎক্ষণিক রক্ত দিয়ে আসবে, এমন প্রতিশ্রুতি হয়েছে বলে জানান ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের সমন্বয়ক আবু তাহের টিপু।
টিপু বলেন, কক্সবাজার জেলায় বছরে ৪০ হাজার ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন পড়ে। সদর হাসপাতালে লাগে প্রায় ২৫ হাজার ব্যাগ। ডোনারদের মাধ্যমেই এসব রক্ত জোগাড় হয়ে আসছে। তারকা হোটেলগুলো সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে রক্ত দানে এগিয়ে আসছে। পর্যটন সেবার পাশাপাশি রক্তদানেও তারকা হোটেলের কর্মজীবীরা উদ্বুদ্ধ হয়ে সারা বছরই রক্ত দিচ্ছেন। কক্সবাজারে ৬০০ থ্যালাসেমিয়া রোগী রয়েছে। যারা সময় মতো রক্ত না পেলে বিপদাপন্ন হয়ে উঠে। তাদের স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিতে নিরাপদ রক্ত দাতারাই ভূমিকা রাখছে। ওশান থেকে সংগ্রহ করা রক্ত থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সরবরাহ করা হবে।
রক্তদান করা হোটেলের নিরাপত্তাকর্মী এমদাদুল ও এফএন্ডবির দিদারুল ইসলাম বলেন, সমাজের সচেতন ও পরিচ্ছন্ন ভ্রমণপিপাসুর তারকা হোটেলে আসেন। তাদের সেবার পাশাপাশি পারিপার্শ্বিক দায়বদ্ধতা থেকে অন্যের জীবন রক্ষার সহযোগী হিসেবে রক্ত দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। হোটেল কর্তৃপক্ষ পর্যটন সেবার সাথে সাথে আমাদের সামাজিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততার সুযোগ দেয়, যেটা বিমুহিত করে।
হাউস কিপিং ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ হোসাইন, বিপনন ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ নুর সোমেল, আইটি বিভাগের কর্মকর্তা জিশান, মানবসম্পদের কিশোরসহ ডজনাধিক কর্মজীবি রক্ত দিয়েছেন।
হোটেল ওশানের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. মাহবুবুল ইসলাম বলেন, পর্যটন শিল্পের বিকালে একযুগ আগে সাগরপাড়ে যাত্রা শুরু করে ওশান প্যারাডাইস হোটেল। শুরু হতেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস এবং নববর্ষ উদযাপনে সক্রিয় হোটেল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী করে আসছে। আবাসন শিল্পে কর্মী স্থায়ী নয়। আসা-যাওয়া থাকায় প্রতিবছরই সবার রক্তগ্রুপিং এবং পরিশুদ্ধতা নিশ্চিত করেই রক্ত সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
তিনি আরো বলেন, কয়েকজনের রক্ত পরিসঞ্চালন করে বাকিদের তালিকা সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দেয়া হয়। পর্যটকসহ যেকোন ধরণের রোগীর প্রয়োজনে কল দেয়া হলে ওশান কর্মীকে হাসপাতালে পাঠিয়ে রক্ত দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সামাজিক কর্মের পাশাপাশি হোটেল কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় কর্মকান্ডেও আত্মনিয়োগী। কোভিড-১৯ এর পর থেকে প্রতিবছর দু’জনকে ওমরাহ হজ্ব ও একজনকে কোরবানির হজ্বে পাঠাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সকল কর্মীদের মাঝে লটারির মাধ্যমে হজ্ব ও হমরাহ যাত্রিদের সিলেক্ট করা হয়।
কর্মসূচিতে শতাধিক হোটেল কর্মজীবীর ব্লাড গ্রুপিং সম্পন্ন করা হয়। এসময় অর্থ বিভাগের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলমগীর, রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের ব্যবস্থাপক আরাফাত, জনসংযোগ কর্মকর্তা সাংবাদিক সায়ীদ আলমগীর, নিরাপত্তা ইনচার্জ সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন, ফুডস এন্ড বেভারেজ বিভাগের সহব্যবস্থাপক কামরুল ইসলামসহ কর্মজীবিরা উপস্থিত ছিলেন।
কুশল/সাএ