রাজধানীর পল্লবী এলাকায় শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় গ্রেফতার প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে নিয়ে ভয়ংকর তথ্য দিয়েছেন তার স্ত্রী স্বপ্না। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বপ্না জানিয়েছেন—জাকির বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন ব্যক্তি এবং তিনি নিজেও বিভিন্ন সময় তার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা। নিহত রামিসা স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর ফ্ল্যাট থেকেই স্বপ্নাকে আটক করা হয়। তবে এর আগেই জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় জাকির। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, সে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় একটি দোকানে বিকাশের মাধ্যমে পাঠানো টাকা তুলতে গেছে। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটি বিকৃত যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আলামত গোপন ও মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে ধারণা পুলিশের।
মঙ্গলবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ–এর অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, শিশুটির সঙ্গে বিকৃত যৌন আচরণ বা ধর্ষণ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
পুলিশ আরও জানায়, রামিসার পরিবার দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ওই ভবনে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে সেখানে ভাড়া ওঠেন। ঘটনার দিন সকালে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে তার মা অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির স্যান্ডেল দেখতে পান।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, রামিসার মা যখন দরজায় নক করছিলেন, তখন ফ্ল্যাটের ভেতরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছিল। পুলিশ বলছে, জাকিরকে পালানোর সুযোগ করে দিতেই দীর্ঘ সময় দরজা খোলেননি স্বপ্না। পরে জাকির পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে দরজা খোলেন তিনি। এ ঘটনায় স্বপ্নাকেও সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করছে পুলিশ।