বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে রাফি মন্ডল (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর ইসলাম (৩৪) নামে আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের চন্ডেশ্বর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত রাফি মন্ডল ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের নাটাবাড়ী গ্রামের বুলু মন্ডলের ছেলে। পেশায় তিনি একজন ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন। আহত জাহাঙ্গীর ইসলাম একই উপজেলার বড়বিলা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ধুনট থেকে চারজনের একটি দল শেরপুর উপজেলার ব্র্যাক বটতলা মেলায় ঘুরতে আসে। মেলা দেখা শেষে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারা কুসুম্বি ইউনিয়নের চন্ডেশ্বর গ্রামে সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি করার উদ্দেশ্যে যায়। ট্রান্সফরমার নামানোর সময় গ্রামবাসী বিষয়টি টের পেয়ে তাদের ধাওয়া করে।
এ সময় জাহাঙ্গীর ইসলামকে চন্ডেশ্বর গ্রামেই ধরে ফেলে গণপিটুনি দেয় উত্তেজিত জনতা। অন্যদিকে, পালানোর সময় পার্শ্ববর্তী আকরামপুর গ্রাম থেকে রাফি মন্ডলকে আটক করে গ্রামবাসী। সেখানেও তাকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। তবে তাদের সঙ্গে থাকা অপর দুই সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা আহত অবস্থায় রাফি ও জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাফি মন্ডলকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত জাহাঙ্গীর ইসলাম জানান, তিনি ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। বাড়িতে আসার পর তাকে মেলা দেখার কথা বলে শেরপুরে নিয়ে আসা হয়। এরপর সহযোগীরা তাকে ট্রান্সফরমার চুরির কথা বলে ওই গ্রামে নিয়ে যায়। চুরির সময় গ্রামবাসী টের পেয়ে ধাওয়া করলে এই ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।