রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী খানের দোকান থেকে অফিসের চোরাই মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর শ্যালক মো. হালিমকে আটক করা হয়েছে।
রোববার সকালে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চুরির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। জানা গেছে, গত ২৬ মে অফিস শেষে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সুমন গাঙ্গুলী অফিসের প্রতিটি কক্ষ ও প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে চলে যান।
রোববার সকালে গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নির্দেশে তিনি অফিসে এসে দেখতে পান, অফিসের দরজার তালা ভাঙা এবং জানালা কাটা অবস্থায় রয়েছে। চোরেরা অফিস থেকে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, পানির মোটরসহ ১১টি গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ দৌলতদিয়া মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী খানের ভাড়া নেওয়া একটি ভাঙারির দোকানে অভিযান চালায়। সেখান থেকে ভূমি অফিস থেকে চুরি হওয়া পানির মোটরসহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, দৌলতদিয়া ইউনিয়নে নিয়মিত চুরির ঘটনা ঘটছে। চুরি হওয়া বেশিরভাগ পণ্য ভাঙারির দোকানে বিক্রি করা হয়। থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় এসব দোকানে চোরাই মাল সহজেই বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ভাঙারির দোকান মালিকদের প্রভাবশালী হওয়ায় চুরির ঘটনা দিন দিন বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী খান বলেন, “স্থানীয় শহিদ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। আমার ধারণা, আমাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে তারা সরকারি অফিসের চোরাই মালামাল আমার দোকানে রেখে গেছে।”
গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান বলেন, “দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সুমন গাঙ্গুলী বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা করবেন।”
গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, “চুরির ঘটনাটি আমরা জেনেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
কুশল/সাএ