ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভারন্যান্স এবং চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফির যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশের উপকূলীয় জলসীমায় আধুনিক সমুদ্র পর্যবেক্ষণ ও পরিবেশগত মডেলিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। HEAT ATF Sub-Project 13025-এর আওতায় আয়োজিত এ সেমিনারের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
এসময় আরও বক্তৃতা করেন আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর, HEAT প্রকল্পের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ড. টোনিয়া অ্যাস্ট্রিড ক্যাপুয়ানোর বিজ্ঞানী ড. শুমিন জিয়াং। স্বাগত বক্তব্য দেন ICOG -এর পরিচালক অধ্যাপক ড. কে. এম. আজম চৌধুরী।
এছাড়া, সেমিনারে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক, শিক্ষার্থী এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (SPARRSO)সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফির বিজ্ঞানীরাও উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
অনুষ্ঠানে ICOG-DU ও FIO -এর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে ক্রেস্ট বিনিময় করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, সমুদ্রবিজ্ঞান, উপকূলীয় পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে চলমান বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা, উপকূলীয় ঝুঁকি মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
উপাচার্য আরও বলেন, বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক বাংলাদেশের অর্থনীতি, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা সমুদ্রসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল। এ প্রেক্ষাপটে চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফির সঙ্গে পরিচালিত যৌথ গবেষণা কার্যক্রম দেশের সমুদ্র পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তিনি জানান, আন্দামান সাগরে GNSS বয়া সফলভাবে স্থাপন এবং মেঘনা মোহনায় CNSS বয়া স্থাপনের চলমান উদ্যোগ বাংলাদেশের সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। এসব প্রযুক্তি উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা, নৌ-নিরাপত্তা, দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতি, জলবায়ু অভিযোজন এবং টেকসই ব্লু ইকোনমি পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
উপাচার্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অনুমোদিত HEAT উপ-প্রকল্পের অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, এ অর্জন দেশের গবেষকদের সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রকল্পটির গবেষণালব্ধ ফলাফল টেকসই উন্নয়ন এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
তিনি তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী দিনের সামুদ্রিক ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষণার নেতৃত্ব তাদেরই দিতে হবে। জ্ঞান, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুস্থ সমুদ্র পরিবেশ এবং জলবায়ু সহনশীল বিশ্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সেমিনারের কারিগরি অধিবেশনে FIO -এর বিজ্ঞানীরা আধুনিক সমুদ্র পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি, সামুদ্রিক ভূ-ঝুঁকি এবং উপকূলীয় পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এছাড়া HEAT প্রকল্পের অগ্রগতি, প্রকল্পের মডেলিং কাঠামো এবং GNSS Buoy Deployment Project-এর ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্বও অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির আওতায় অত্যাধুনিক মাঠপর্যায়ের প্রযুক্তি ও সংখ্যাগত (Numerical) মডেলিংকে সমন্বিত করা হয়েছে। Delft3D মডেলিং সিস্টেম ব্যবহার করে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দূষণের গতিশীলতা, বিষাক্ত পদার্থের বিস্তার এবং উপকূলীয় অঞ্চলে দূষণ সঞ্চয়ের ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করা হবে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ পরিবেশগত ডেটাবেইস গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে গবেষকদের জন্য রিয়েল-টাইম বয়া তথ্য বিশ্লেষণ, সমুদ্রবিজ্ঞানভিত্তিক মডেলিং, উপকূলীয় ঝুঁকি পূর্বাভাস এবং পরিবেশগত পর্যবেক্ষণে দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি মাইক্রোপ্লাস্টিক, ভারী ধাতু ও তেল দূষণের প্রভাব মূল্যায়ন এবং তা মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠবে।
কুশল/সাএ