কুমিল্লার লাকসামে নিজ বাড়ি থেকে অপহরণের ৩৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো উদ্ধার করা যায়নি এক কিশোরীকে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে অপহৃত কিশোরীর মা বাদী হয়ে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪০ জনকে আসামি করে লাকসাম থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
বুধবার (৩ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুন্নাহার লাইলী।
অপহৃত কিশোরী লাকসাম উপজেলার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। প্রধান অভিযুক্ত মো. মাসুদ (৩২) ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর সঙ্গে মাসুদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে মাসুদ তাকে নিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় কিশোরীর পরিবার লাকসাম থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৭ দিন পর তাকে উদ্ধার করে। পরে অপহরণের দায়ে মাসুদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে আদালত কিশোরীকে পরিবারের জিম্মায় দেন এবং মাসুদকে কারাগারে পাঠান। সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান।
অভিযোগ রয়েছে, সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাসুদ তার সহযোগীদের নিয়ে কিশোরীর বাড়িতে হামলা চালান। একপর্যায়ে তারা বাড়ির প্রধান ফটক ভেঙে এবং ছাদের ওপর দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে কিশোরীর মা-বাবাকে মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে দ্বিতীয় তলা থেকে কিশোরীকে জোরপূর্বক নিচে নামিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় ঘরে থাকা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারও লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার ৩৫ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজও পাওয়া গেছে। ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক একটি ডুপ্লেক্স ভবনের ছাদ থেকে এক কিশোরীকে কাঁধে করে নিচে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় বাড়ির আঙিনা ও আশপাশে বহু মানুষের উপস্থিতি ছিল।
অপহৃত কিশোরীর বাবা বলেন, “এর আগেও মাসুদ আমার মেয়েকে অপহরণ করেছিল। তখন পুলিশের সহযোগিতায় ১৭ দিন পর তাকে উদ্ধার করা হয়। এবার রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে মেয়েকে আবারও তুলে নিয়ে গেছে। হামলার সময় আমাদের মারধর করা হয়েছে এবং ঘরে থাকা প্রায় ১৭ লাখ টাকা ও ৩০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বাড়িতে থাকা আটটি সিসিটিভি ক্যামেরায় হামলাকারীদের কর্মকাণ্ড রেকর্ড হয়েছে। দ্রুত মেয়েকে উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে লাকসাম থানার ওসি কামরুন্নাহার লাইলী বলেন, “অপহরণের ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।”