নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী জানিয়েছেন, কারাগারে থাকার সময় সংগীতশিল্পী ও মানিকগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম প্রায়ই তাকে গান শোনাতেন। তবে ভাইয়ের স্মৃতি জড়িয়ে থাকায় একটি নির্দিষ্ট গান না গাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে নিজ বাসভবনে স্কুলজীবনের বন্ধুদের সঙ্গে আলাপকালে জেলজীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন সদ্য কারামুক্ত আইভী। তিনি বলেন, কারাগারে অবসর সময়ে গানের আসর বসত, যেখানে মমতাজ বেগম ছিলেন প্রধান শিল্পী। তবে ‘আমার ভাইয়েরে কইও নাইওর আনতো গিয়া’ গানটি না গাওয়ার জন্য তিনি মমতাজকে অনুরোধ করেছিলেন।
আইভীর ভাষ্য, গানটি শুনলে তার ছোট ভাই আহমদ আলী রেজা রিপনের কথা মনে পড়ে যেত। তিনি মমতাজকে বলেছিলেন, জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার দিন চাইলে গানটি গাওয়া যেতে পারে, কারণ তখন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজের কষ্ট ভাগাভাগি করার সুযোগ থাকবে।
তিনি জানান, মুক্তির দিন বিকেলে কারাগারের গানের আসরে মমতাজ ওই গানটি গেয়েছিলেন। তখনও তিনি জানতেন না যে সেদিনই তার মুক্তি মিলবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৫ বছর বয়সে মারা যান আইভীর ছোট ভাই আহমদ আলী রেজা রিপন। তার প্রায় এক মাস পর, ৯ মে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রিপনের স্ত্রী চার বছর আগে মারা যান। তাদের তিন সন্তান বর্তমানে আইভীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাসভবনে ফেরেন আইভী। এরপর থেকেই আত্মীয়স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও নেতাকর্মীদের আগমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে একাধিকবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
বিকেলে তার বাসায় দেখা করতে আসেন সাবেক নারী কাউন্সিলর মিনুয়ারা বেগম, শাওন অংকন, সাদিয়া সাউদ এবং সাবেক কাউন্সিলর মুক্তিযোদ্ধা অলিউর রহমান। তাদের সঙ্গে আলাপের একপর্যায়ে ভাইয়ের কথা স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন আইভী।
এদিকে আইভীর বাসার সামনে আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে জেলা পুলিশ। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, শুধু সাবেক মেয়রের বাড়ি নয়, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই ওই এলাকায় চারটি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আইভীর সঙ্গে দেখা করতে সাধারণ মানুষের কোনো বাধা নেই। তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা সভা-সমাবেশে জড়িত হচ্ছেন কি না, তা পুলিশ পর্যবেক্ষণে রাখবে। আইন লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের ১২টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরবর্তীতে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিভিন্ন আদেশে সব মামলায় তার জামিন বহাল থাকে। সংশ্লিষ্ট আদালতের আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর পর যাচাই-বাছাই শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।