শনিবার , ৬ জুন ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. তথ্য-প্রযুক্তি
  7. বিনোদন
  8. মতামত
  9. সর্বশেষ
  10. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুঁটির বদলে বাঁশ ও গাছে ঝুলছে বিদ্যুৎ লাইন, আতঙ্কে স্থানীয়রা

ঢাকা ইনফো২৪
জুন ৬, ২০২৬ ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বেতুয়া, কচুয়া, শালগ্রামপুর, কালিয়ানসহ বিভিন্ন এলাকায় খুঁটির পরিবর্তে বাঁশ ও গাছের ডাল ব্যবহার করে পিডিবির এলটি (লো-টেনশন) খোলা তারে বিদ্যুৎ লাইন টানানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ সংযোগ ব্যবস্থার কারণে প্রায়ই বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা, ট্রান্সফরমার বিকল হওয়া এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

সরেজমিন কচুয়া বাজারের পশ্চিম পাশে মেইন লাইন থেকে মামুন শিকদারের গভীর নলকূপে একটি খোলা তারের লাইন টানানো হয়েছে। লাইনটিতে দুই একটি সিমেন্টের ভাঙ্গা খুঁটি ছাড়া ১২টির পুরোটাই বাঁশের খুঁটি। দুইশতাধিক গ্রাহক জরাজীর্ণ এই লাইনের উপর নির্ভরশীল। এছাড়া আরো ঝুঁকি হল লাইনটি একটি রাস্তার উপর দিয়ে চলে গেছে। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সামান্য বাতাসেই বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে প্রায়ই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় বিদ্যুতের তার। বারবার বিদ্যুৎ অফিসে বিষয়টি জানালেও এটি সমাধান করা হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মূল বিদ্যুতের খুঁটি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত বাঁশ কিংবা গাছের সাহায্যে বিদ্যুতের তার টেনে শত শত বাসাবাড়ি, গভীর নলকূপ ও সেচ পাম্পে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। অনেক স্থানে তারগুলো বাঁশঝাড় ও গাছের ডালের সঙ্গে জড়িয়ে থাকায় বাতাস বা ঝড়ের সময় শর্টসার্কিটের ঘটনা ঘটে। এতে ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।

কচুয়া গভীর নলকূপের মালিক ও কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মামুন সিকদার বলেন, খোলা বিদ্যুতের তারে অত্যন্ত বিপদজনকভাবে আমাদের লাইনটি চলছে। আমরা বারবার বিদ্যুৎ অফিসে অবহিত করেও কোন প্রকার সমাধান বা মেরামতের ব্যবস্থা হচ্ছে না। এটি মেরামত করা খুবই জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে মেরামত করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পরান মিয়া বলেন, আমাদের বসত বাড়ির উপর দিয়ে ভাঙা খুঁটির মাধ্যমে খোলা তারের বিদ্যুৎ লাইন গেছে। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি কখন যেন দুর্ঘটনা ঘটে।

বেতুয়া গ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, “আমাদের এলাকায় গাছ ও বাঁশের সঙ্গে টাঙানো বিদ্যুতের তারগুলো এত নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ যে হাত বাড়ালেই স্পর্শ করা যায়। পুরোনো তার প্রায়ই ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে যায়। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, স্কুল ও মাদ্রাসায় যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা সবসময় উদ্বিগ্ন থাকেন। কারণ, অনেক স্থানে বাঁশের সঙ্গে ঝুলন্ত বিদ্যুৎ লাইনের নিচ দিয়েই চলাচল করতে হয়।

বেতুয়া গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. উজ্জ্বল হোসাইন বলেন, “গ্রামের বিভিন্ন স্থানে এলটি লাইনের তার বাঁশবাগানের ভেতর ও বাঁশের সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় বাঁশ ভেঙে বা তার ছিঁড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর আগে বিদ্যুতায়িত হয়ে দুটি গরুসহ কয়েকটি প্রাণী মারা গেছে। মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

শালগ্রামপুর গ্রামের ইউপি সদস্য মো. দুলাল হোসেন বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত সংযোগের কারণে এলাকাবাসী সবসময় আতঙ্কে থাকে। একই সঙ্গে লো-ভোল্টেজের সমস্যায় গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। এতে বৈদ্যুতিক মোটর, ফ্রিজসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না এবং অনেক সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ ব্যবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে।

এ বিষয়ে সখীপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুবকর তালুকদার বলেন, এ ব্যাপারে আমার দপ্তরে কেউ অবহিত করেনি। আমি এখন জানলাম দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



কুশল/সাএ

ঢাকা ইনফো২৪

ঢাকা ইনফো২৪ (DhakaInfo24) একটি বাংলাদেশভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে সর্বশেষ ব্রেকিং নিউজ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং লাইফস্টাইল বিষয়ক আপডেট নিয়মিত প্রকাশ করা হয়। দ্রুত, নির্ভুল এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদানই ঢাকা ইনফো২৪-এর মূল লক্ষ্য। আধুনিক সাংবাদিকতার মান বজায় রেখে পাঠকদের জন্য সর্বশেষ খবর সহজ ও স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।