ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার বিটঘর ইউনিয়নের টিয়ারায় টেঁটা যুদ্ধের এক পক্ষের মোড়ল আতিকুর রহমান শিশু নিজেকে নির্দোষ দাবী করে সংবাদ সম্মেলনে করেছেন, সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন, অভিযোগ রয়েছে তিনি যখন যে দল ক্ষমতায় তখন সে দলের হয়ে আধিপত্য বিস্তার করে দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টি করে ইউনিয়ন ও গ্রাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই জানান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং নির্বাচনীয় কেন্দ্র দখল নিয়ে একই এলাকার কয়েকজন কে মারধর করে পুঙ্গো করে দেন, চলে তার ত্রাসের রাজত্ব।জানা যায় টিয়ারায় গ্রাম্য আধিপত্য নিয়ে ঐ গ্রামে শিশু মিয়া ও হোসেন মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা চলছিল।
গত সোমবার রাতে পূর্ববিরোধের জের ধরে স্থানীয় বাছির মেম্বারের বাড়িতে এক পক্ষের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,পরের দিন গত মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে টিয়ারা বাজারে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।এতে উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হন। এ সময় বাজারের বেশ কয়কটি দোকানে লুটপাট চালানো হয়। এবং শিশু মিয়ার লোকজন মাইকে ঘোষণা দিয়ে দফায় দফায় হামলা করে বেশ কয়েকজনকে আহত করে। এছাড়া বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নারী শিশুদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। শিশু মিয়া সমাজে আগুন লাগিয়েছে,সে কখনো সমাজ সেবক হতে পারে না।যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তিনি সে দলের হয়ে যান আর শুরু করেন ত্রাসের রাজত্ব।
টিয়ারা গ্রামের টেঁটা যুদ্ধের বিষয়ে হোসেন গ্রুপের পক্ষ আহমেদ হোসেন জানান, বাজারে তাদের লোকজনের ওপর শিশু মিয়া গ্রুপের সশস্ত্র লোকজন প্রথমে অতর্কিত হামলা চালায়। তখন তারা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে শিশু মিয়ার লোকজন বাজারের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে।এবং বেশ কয়েকজনকে আহত করে। পরবর্তীতে মাইকে ঘোষণা দিয়ে শিশু মিয়ার নেতৃত্বে লোকজন টেঁটা নিয়ে মাঠে অবস্থান করলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সুশীল প্রবীণ ব্যক্তি জানান, নবীনগরে বেশ কয়দিন ধরে শান্তি বিরাজ করছিল,হঠাৎ করে টিয়ারায় শিশু গ্রুপ ও হোসেন গ্রুপ নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে টেঁটা যুদ্ধে মেতেছে, এতে করে সারাদেশে আমাদের নবীনগরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে, আমরা মনে করি শিশু মিয়া ও হোসেন মিয়া দুইজনকেই গ্রেফতার করা জরুরি। একজন অপরাধী কিভাবে অপরাধ করে প্রকাশ্যে সাংবাদিক সম্মেলন করে।