মাত্র কয়েক সেকেন্ডের অসাবধানতা কেড়ে নিল একটি তাজা প্রাণ। চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় দুই পা। রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারলেন না রিপন মিয়া (৩৫)। উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই থেমে যায় তার জীবনের পথচলা।
মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটেছে গাইবান্ধার বোনারপাড়া রেলস্টেশনে। শনিবার (৬ জুন) দুপুরে দুর্ঘটনার পর সন্ধ্যার দিকে হাসপাতালে নেয়ার পথিমধ্যে মৃত্যু হয় তার।
নিহত রিপন মিয়া গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দলদিয়া গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে।
রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি বোনারপাড়া রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি করে। নির্ধারিত বিরতি শেষে ট্রেনটি গাইবান্ধার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার সময় স্টেশনের সিগন্যাল সংলগ্ন এলাকায় হঠাৎ ট্রেনের নিচে পড়ে যান রিপন মিয়া।
এ সময় ট্রেনের চাকায় তার দুই পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মুহূর্তেই রেললাইন রক্তে ভিজে যায়। স্থানীয় লোকজন ও রেলওয়ে পুলিশ দ্রুত ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
সেখানে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধের চেষ্টা করেন। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত পথিমধ্যেই মারা যান তিনি।
বোনারপাড়া রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউর রহমান জিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “দুর্ঘটনায় রিপন মিয়ার দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয়।”
তিনি আরও জানান, কী কারণে রিপন ট্রেনের নিচে পড়ে গিয়েছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ট্রেনের দরজার হাতল ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। চলন্ত অবস্থায় ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।
এক মুহূর্তের দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো রিপনের মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে দলদিয়া গ্রামের পরিবেশ। জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হওয়া একজন মানুষ আর কোনোদিন ফিরবেন না—এই নির্মম বাস্তবতা মেনে নিতে পারছেন না তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা।