কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী থেকে সারা দেশে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গত সোমবার রাতে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তি আহত হলে উত্তেজিত জনতা ঢাকাগামী স্বাধীন পরিবহন নামের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম ও উত্তর ধরলা বাস মালিক সমিতি ভূরুঙ্গামারীর সাথে সকল ধরনের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে ঢাকাগামী যাত্রীদের কুড়িগ্রাম জেলা সদরে গিয়ে বাসে উঠতে হচ্ছে। কুড়িগ্রামগামী যাত্রীদেরও অটোরিকশায় কুড়িগ্রাম যেতে হচ্ছে। অপরদিকে বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে নূরে আলম সিদ্দিকী মুকুট বাদী হয়ে ১৪ জনকে আসামি (অজ্ঞাত ২৫/৩০ জন) করে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী যাত্রী মাহাদী ইমাম, মাহজুবাহ হক ও আলেফ উদ্দিন জানান, “আমরা ঢাকা যাওয়ার জন্য নাইট কোচের টিকিট সংগ্রহ করেছি। কাউন্টার থেকে জানানো হয়েছে বাস ভূরুঙ্গামারীতে আসবে না। কুড়িগ্রাম গিয়ে বাসে উঠতে হবে। ব্যাগ-বস্তা ও মালামাল নিয়ে ৪০ কি.মি পাড়ি দিয়ে কিভাবে কুড়িগ্রাম যাবো চিন্তায় রয়েছি। এতে একদিকে সময় নষ্ট হচ্ছে, অপরদিকে অর্থ ও বাড়তি শ্রম ব্যয় হচ্ছে।”
কুড়িগ্রাম বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন জানান, “আমাদের বাস ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছি। অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিক ও বাসের নিরাপত্তা পেলে বাস চালু করা সম্ভব হবে।” তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানিয়েছেন, বাস পোড়ানোর ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। বাস চালুর ব্যাপারে কুড়িগ্রাম মালিক সমিতির সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথ জানালেন, “বিষয়টি নিয়ে উত্তর ধরলা মোটর মালিক সমিতির সম্পাদক স্বপন কুমার সাহার সাথে কথা হয়েছে। তিনি বিকেলে বসবেন বলে জানিয়েছেন।”
সালাউদ্দিন/সাএ