কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ঢাকাগামী বাস সার্ভিস বন্ধের প্রতিবাদে এবং পুনরায় দিবা ও নৈশকোচ চালুর দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল গোলচত্বরে উপজেলা বিএনপি ও সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, আন্ধারীঝাড় এলাকায় বাস পোড়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বাস সার্ভিস বন্ধ থাকায় সীমান্তবর্তী এ উপজেলার মানুষের রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। অবিলম্বে ডে অ্যান্ড নাইট কোচ সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হবে।
মানববন্ধনে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী আলাউদ্দিন মণ্ডল, সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম আকন্দ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াদুদ সরকার, ইফতেখারুল ইসলাম শ্যামা, কাজী নিজাম উদ্দিন এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম শান্ত, ছাত্রদলের সভাপতি মিজানুর রহমান বক্তব্য রাখেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে, ঘটনার সূত্রপাত উল্লেখ করে বাস মালিক সমিতি জানায়, গত সোমবার রাতে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন আহত হলে উত্তেজিত জনতা ঢাকাগামী স্বাধীন পরিবহনের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে বুধবার সকাল থেকে ভূরুঙ্গামারী রুটে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় কুড়িগ্রাম ও উত্তর ধরলা বাস মালিক সমিতি। গত বৃহস্পতিবার থেকে ভূরুঙ্গামারী থেকে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত লোকাল বাস চললেও ঢাকাগামী সকল বাস বন্ধ রাখা হয়।
বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাস ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে বাস চলাচল ফের চালু হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেবনাথ জানান, ঢাকাগামী দিবা ও নৈশকোচ চালুর ব্যাপারে কুড়িগ্রাম বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে। মানববন্ধনে আজ শনিবার সন্ধ্যা থেকে ভূরুঙ্গামারী টু ঢাকা সরকারি বাস সার্ভিস চালুর দাবি জানানো হয়।
সালাউদ্দিন/সাএ