কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বুকচিরে বয়ে গেছে দুধকুমার নদ।সদর ইউনিয়নের নলেয়া, কামাত আঙ্গারীয়া ও তিলাই ইউনিয়নের দক্ষিণ ছাট গোপালপুর গ্রামের প্রায় দেড় কিলেমিটার এলাকা জুড়ে দুধকুমার নদের ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিবছর বর্ষায় আগ্রাসী রুপ ধারণ করে এই নদ।
নদের ভাঙনে সর্বস্বান্ত হয় অসংখ্য পরিবার। তাই নিজেদের ভিটেমাটি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারিয়া-নলেয়া গ্রামে দুধকুমার নদের ভাঙনরোধে ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে স্থানীয় প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন থেকে জানানো হয় দুধকুমর নদের বাঁধ নির্মাণ আংশিকভাবে বন্ধ রেখে উজান ও ভাটির অংশে কাজ সম্পন্ন করায় নদীভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এতে করে স্থানীয় জনপদ, ফসলি জমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে।
এছাড়াও ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের নলেয়ার শহিদুলের ঘাট হইতে তিলাই ইউনিয়নের দক্ষিণ ছাট গোপালপুর বাচ্চুর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১৫০০ মিটার এলাকায় ব্যাপক ভাবে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। নলেয়া, কামাত আঙ্গারীয়া ও দক্ষিণ ছাট গোপালপুর গ্রামের অনেকের বসতভিটা ও তিন ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
এতে তারা নিঃস্ব হয়ে গেছেন। নদী তীরের বাসিন্দারা ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ভাঙন কবলিত এলাকার উত্তরে ও দক্ষিণে বাঁধ নির্মান করা হচ্ছে। কিন্তু ভাঙন কবলিত মধ্যবর্তী অংশে বাঁধ নির্মাণ না করা হলে উত্তর ও দক্ষিণে নির্মিত বাঁধ কাজে আসবে না।
এছাড়া রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ অন্যান্য স্থাপনা ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করা হলে আসছে বর্ষায় ভাঙন কবলিত পুরো এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে বসতবাড়ি, আবাদি জমি নদী গর্ভে হারিয়ে যাবে।
সমাবেশে বক্তারা জানান, দুধকুমর নদের এই ভাঙন রোধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পুরো এলাকা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। নদের ভয়াবহ ভাঙনে ইতোমধ্যে বহু পরিবার তাদের বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা হারিয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে উদ্যোগী হতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ , সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীর গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে বাঁধ নির্মাণ বন্ধ রেখে অন্য অংশে কাজ সম্পন্ন করায় পানির চাপ এসে এই এলাকায় তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি করেছে। ফলে প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। অবিলম্বে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানান তারা। মানববন্ধনে ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দা মেহেদী মাসুদ, আইয়ুব আলী, আবুল হোসেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী আলাউদ্দিন মন্ডল, সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম আকন্দ, যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখারুল ইসলাম শ্যামা, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম ইয়াসিন ও প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বক্তব্য রাখেন।
সালাউদ্দিন/সাএ