ঢাকা: মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে প্রায় ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২১ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। দুদকের করা সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শুনানিতে দুদকের পক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদন বাতিলের দাবি জানিয়ে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ আবেদনে উল্লেখ করেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নির্ধারিত ফি অতিক্রম করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার পরিবর্তে বিভিন্ন ধাপে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে মোট ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়। পরে সেই অর্থ বিভিন্ন উপায়ে স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থপাচারের অভিযোগও রয়েছে।
দুদকের ভাষ্য, এ ঘটনায় দণ্ডবিধি, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন পল্টন মডেল থানার একটি মামলায় আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে একাধিক দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গত ২৫ মার্চ বর্তমান মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনও করা হয়েছিল।