
ছবি: প্রতিনিধি
নওগাঁর পোরশা উপজেলা সদরের নিতপুরে ব্যতিক্রমী এক খাবার ‘পটলপাতার বড়া’ তৈরি ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন শফিকুল ইসলাম। কোনো চাকচিক্য বা নামিদামি খাবার নয়, দীর্ঘ আট বছর ধরে কেবল ‘পটলপাতার বড়া’ বিক্রি করেই স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি। এই বড়া বিক্রি করে স্ত্রী, পাঁচ ছেলে-মেয়েসহ সংসার চালাচ্ছেন শফিকুল। তবে কারও কাছে হাত পাততে হয়নি তাকে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুরে জন্মগ্রহণ করলেও পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন পোরশা উপজেলার নিতপুর মাস্টারপাড়ায়।
শফিকুল জানান, আট বছর আগে সামান্য পুঁজি নিয়ে উপজেলার গেটের পাশে একটি ছোট দোকানঘরে পটলপাতার বড়া বিক্রি শুরু করেন। শুরুতে অনেকেই এই খাবারটি খুব একটা ভালো মনে করতেন না। কিন্তু চমৎকার স্বাদের কারণে অল্প দিনেই বড়াটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। প্রতিদিন বিকেল হলেই ভোজনরসিক ক্রেতাদের ভিড় জমে তার দোকানে।
তিনি আরও জানান, শুরুর দিকে পটলপাতা সংগ্রহ করে বড়া ভেজে বিক্রি করাটা সহজ ছিল না। তারপরও তিনি দমে যাননি। বড়া তৈরি করতে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়। পটলপাতা সংগ্রহ থেকে শুরু করে মসলার সঠিক মিশ্রণ—সবই তাকে নিজ হাতে করতে হয়।
আট বছর ধরে এই বড়া বিক্রি করেই চলছে তার সংসার। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচও বহন করছেন এই আয়ের মাধ্যমেই। প্রতিদিন তিনি প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার বড়া বিক্রি করেন। তবে মানুষের ভালোবাসাই তার এই কাজের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা বলে জানান তিনি।
নিয়মিত দোকানে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, শফিকুলের হাতের তৈরি পটলপাতার বড়া অত্যন্ত মচমচে ও সুস্বাদু। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি হওয়ায় বড়াটি এলাকায় একটি জনপ্রিয় খাবারে পরিণত হয়েছে। দামও কম হওয়ায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এটি খেতে আসেন।
তারা আরও বলেন, কোনো কাজই যে ছোট নয়, শফিকুল ইসলাম গত আট বছর ধরে তা প্রমাণ করে চলেছেন। সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা পেলে তিনি তার এই ক্ষুদ্র ব্যবসাকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে পারবেন বলে তাদের বিশ্বাস। শফিকুলের এই আত্মকর্মসংস্থানের উদ্যোগ সমাজের বেকার যুবকদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।