
সংগৃহীত ছবি
মাঠের বাইরের একের পর এক নাটকীয়তা, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসা নীতি আর অনুশীলনের সময় প্রায় অর্ধেক কমে যাওয়ার মানসিকধকল; সব প্রতিকূলতা একপাশে রেখে ফুটবল মাঠেই জবাব দিল ইরান। বিশ্বকাপের মঞ্চে ইউরোপীয় পরাশক্তি বেলজিয়ামকে প্রথমার্ধেইআটকে দিয়েছে এশিয়ান সিংহরা।
লস অ্যাঞ্জেলসের মাঠে নানা বাধাবিপত্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লড়াকু ফুটবলের এক অনন্যনজির গড়ল ইরান। গ্রুপ ‘জি’-এর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট শেষে খেলা এখন গোলশূন্য।
ম্যাচের শুরু থেকেই তারকাখচিত বেলজিয়াম নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে মাঠের দখল নেয়। একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে তারাইরানের রক্ষণভাগকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করে। পুরো প্রথমার্ধে ইরানের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে বেলজিয়ামের ফুটবলাররা মোট ১১টিশট নেন, যার মধ্যে ৪টি ছিল সরাসরি অন-টার্গেট।
তবে ম্যাচের আগে ইরানি কোচ আমির গালিনোই যে ডিফেন্সিভ প্রতিরোধের ছককষেছিলেন, তার শিষ্যরা মাঠে হুবহু তা-ই করে দেখিয়েছেন। বেলজিয়ামের প্রতিটি আক্রমণই আছড়ে পড়েছে ইরানি ডিফেন্সেরইস্পাতকঠিন দেওয়ালে।
বেলজিয়াম বল দখলে এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক সুযোগটি তৈরি করেছিল ইরানই। ম্যাচের ২১তম মিনিটে স্রোতেরবিপরীতে এক দুর্দান্ত কাউন্টার-অ্যাটাক থেকে বল পান ইরানি ডিফেন্ডার হোসেইন কানানি।
ডি-বক্সের ভেতর বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঘুরেদাঁড়িয়ে তিনি যে শটটি নিয়েছিলেন, তা নিশ্চিত গোলের দিকেই যাচ্ছিল। কিন্তু বেলজিয়ামের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান বিশ্বমানের গোলরক্ষকথিবো কোর্তোয়া। বাজপাখির মতো ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে বল আটকে দেন তিনি।
এর কিছুক্ষণ পর, ম্যাচের ২৭তম মিনিটে আবারও বেলজিয়াম শিবিরে কাঁপন ধরায় ইরান। চমৎকার এক ফ্রি-কিক থেকে বল জালেজড়িয়ে উল্লাসে মেতে উঠেছিল পুরো দল। তবে লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলায় সেই গোলটি বাতিল হয়ে যায় এবং লিড নেওয়াথেকে বঞ্চিত হয় এশিয়ান পরাশক্তিরা।
গ্রুপ ‘জি’-এর প্রথম রাউন্ডের সবগুলো ম্যাচই অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়েছিল, যেখানে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২গোলে ড্র করেছিল ইরান। ফলে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করতে বেলজিয়ামের জন্য এই ম্যাচে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পাওয়া ভীষণজরুরি।
অন্যদিকে, মেক্সিকোর তিজুয়ানা থেকে লস অ্যাঞ্জেলসে এসে প্রস্তুতির জন্য মাত্র ১৬ ঘণ্টাও সময় পায়নি ইরান। অথচ সেই ক্লান্তি ভুলেবেলজিয়ামের মতো দলকে যেভাবে প্রথম ভাগে আটকে রাখা গেছে, তা দ্বিতীয়ার্ধে ইরানি শিবিরের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে তাবলাই বাহুল্য।