আজ রবিবার (১৫ মার্চ) ‘ময়মনসিংহ শহরে যানজট ও নাগরিক সেবা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল সংলাপে বক্তাগণ বলেছেন, “চীনের দুঃখ হোয়াংহো নদী, আর ময়মনসিংহের প্রধান দুঃখ যানজট ও অপরিকল্পিত নগরায়ন।”
বক্তাগণ আরো বলেন, ময়মনসিংহ বিশ্বের নবম ধীরগতির নগরী। শহরে উঁচু উঁচু বিল্ডিং থাকলেও গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা নেই, নিচতলা বাণিজ্যিক স্বার্থে ভাড়া দেওয়া থাকে। এদিকে গাঙ্গিনার পাড়, চরপাড়া মোড়, পাটগুদাম ব্রীজ বাসস্ট্যান্ডে ফুটপাতে অস্থায়ী দোকানপাট, শহরের মাঝখানে রেললাইন, অতিরিক্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ট্রাফিক জ্যামের অন্যতম কারণ। যারা এসব স্থান থেকে চাঁদা বা অন্যান্যভাবে সুবিধাভোগী, তারাও চায় না এসব নির্মূল করতে। এছাড়াও শহরের মাঝখানে মাসকান্দা ও টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোচিং ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোও যানজটের অন্যতম কারণ।
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের শহিদ শাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল এবং প্রথম আলো আয়োজিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান এবং মাল্টিপার্টি এডভোকেসী ফোরামের সভাপতি একেএম মাহবুবুল আলম।এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন যানবাহন মালিক সমিতির প্রধানগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নবনিয়োগকৃত প্রশাসক রোকনুজ্জামান সরকার এক অডিও বার্তায় বলেন, আমি জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। আমার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা দূর করা এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা। যানজটের ক্ষেত্রে বলেন, পরিবহন চালকরা অসচেতন, যাত্রীরাও দায়িত্বশীল নয়।
সংকট সমাধানের উপায় হিসেবে সুধীজন ও অতিথিরা বলেন, শহরকে প্রতিনিয়ত সংকুচিত না করে প্রসারিত করতে হবে। নদীর ওপারে উপশহর স্থানান্তর করে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও স্থাপনা স্থানান্তর ছাড়া এই যানজটের দৃশ্যমান সমাধান সম্ভব নয়। স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জরুরি। প্রশাসক ও জনগণ সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে, কারণ নাগরিক সচেতনতা ও দেশপ্রেম ছাড়া ময়মনসিংহ শহরে কখনোই যানজট নিরসন হবে না।
