সম্প্রতি লালমনিরহাট জেলা শহরের মিশনমোড় এলাকায় একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক থেকে ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক নির্দোষ ব্যবসায়ীকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।
জানা গেছে, (গত ৯মার্চ) তারিখে লালমনিরহাট জেলা ট্রাক ও ট্যাঙ্কলরি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ শাহ আলমকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে ফেসবুকসহ কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদক উদ্ধারের ঘটনায় জব্দ করা ট্রাকটির প্রকৃত মালিক সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ীর। মূলত ট্রাকটির চালক অতিরিক্ত লাভের আশায় মাদক বহন করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ট্রাকের চালক রাকু মিয়া ও সহকারী লুৎফর রহমানকে অভিযুক্ত করে তাদের নামেই থানায় অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া গাঁজার মূল মালিক মোগলহাট টেম্পু স্ট্যান্ড এলাকার রাশেদ মিয়া। অভিযোগ রয়েছে, তিনি থানায় টাকার বিনিময়ে আপস-মীমাংসা করে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।
এদিকে আইনগতভাবে প্রকৃত মালিক শনাক্ত হওয়ার পরও মোঃ শাহ আলমের মতো একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষকে এ ঘটনায় জড়িয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার করাকে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল “সুপরিকল্পিত চরিত্রহনন” হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয়রা জানান, মোঃ শাহ আলম ছাত্রজীবন থেকেই অত্যন্ত পরিশ্রমী ও মেধাবী। শূন্য থেকে নিজের মেধা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি বর্তমানে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও পরিবহন মালিকদের নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তার এই সাফল্য ও জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
এ বিষয়ে মোঃ শাহ আলম বলেন, “আমি সারাজীবন সততা ও পরিশ্রম দিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছি। মাদক বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমার কোনো দূরতম সম্পর্ক নেই। প্রকৃত মালিক কে, তা প্রশাসন অবগত এবং মামলাও তাদের বিরুদ্ধেই হয়েছে। এরপরও আমাকে জড়িয়ে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমি এই জঘন্য ষড়যন্ত্রের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ফলে তার ব্যক্তি ও সামাজিক মর্যাদায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
এধরনের মিথ্যা প্রচারণায় এলাকাবাসী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা অবিলম্বে এই মিথ্যা সংবাদের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
