জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক, বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক ছাত্রনেতা একেএম আহসানুল জাকির আজ আনুষ্ঠানিকভাবে তার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।
এ সময় জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বরণ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুধীজনের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তিনি। বক্তব্যের শুরুতেই মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বগুড়ার মতো ঐতিহ্যবাহী জেলায় জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় তিনি আল্লাহর দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া আদায় করছেন।
তিনি বলেন, ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ বগুড়া একসময় প্রাচীন পুন্ড্রনগরের রাজধানী ছিল। এই জেলা থেকেই অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বগুড়ার কৃতি সন্তান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে বগুড়ার পুত্রবধূ বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশব্যাপী নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে। তার নির্দেশনা ও দিকনির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে পারলে দেশকে আরও উন্নত করা সম্ভব।
একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির বলেন, গত ১৭ বছরে বগুড়া নানা দিক থেকে অবহেলিত ছিল এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এমনকি জেলা পরিষদের অবকাঠামোগত অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে উন্নয়নের পরিবর্তে লুটপাট হয়েছে।
তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বগুড়াকে একটি আধুনিক ও উন্নত জেলায় পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করা হবে। এজন্য বগুড়ার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, জেলা পরিষদের মাধ্যমে রাস্তাঘাট নির্মাণ, স্কুল-কলেজের উন্নয়ন, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এসব কাজ পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়নের জন্য তিনি শিগগিরই জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ে বসবেন।
নবনিযুক্ত প্রশাসক আরও জানান, তিনি এর আগে দুটি উপজেলার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, পাঁচ বছর উপজেলা প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন এবং তিনবার বিআরডিবির চেয়ারম্যান ছিলেন। প্রশাসনিক কাজে তার যে অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে সবার পরামর্শ নিয়ে বগুড়া জেলা পরিষদকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, “আমি আজই মাত্র দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনা করে বগুড়ার কোথায় কী প্রয়োজন রয়েছে তা নির্ধারণ করা হবে এবং সেই অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।”
