নানা সমস্যায় জর্জরিত মাদারীপুর সদর হাসপাতাল
প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫৬ পিএম (ভিজিট : ০)

X
ছবি: প্রতিনিধি
মাদারীপুর জেলার মোট জনসংখ্যা ১২ লাখ ৯৩ হাজার ২৭ জন। বিশাল এই জন সংখ্যার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য নেই কোন উন্নত মানের হাসপাতাল।
জেলা সদরে একশ শয্যার একটি হাসপাতাল থাকলেও নেই পর্যাপ্ত পরিমান চিকিৎসক, রোগীর বেড, ওষুধ, পরীক্ষা নিরিক্ষা করার আধুনিক যন্ত্রপাতি। চক্ষু, কার্ডিওলজির কোন চিকিৎসক নেই দীর্ঘদিন ধরে।
হাসপাতালে একটু গুরুতর রোগী নিয়ে আসলেই উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেয়া হয় ফরিদপুর অথবা ঢাকায়। যার ফলে স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এ জেলার গরীব অসহায়সহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারী একশ শয্যার মাদারীপুর সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নিত করা হলেও এখনও খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে একশ শয্যার জনবল দিয়ে। এখানেও নেই পর্যাপ্ত পরিমান চিকিৎসক। ৫৪ জন চিকিৎসকের মধ্যে আছে মাত্র ১৬ জন। ৩৮ জন চিকিৎসকের পদই শূন্য। এছাড়াও নার্স, অন্যান্য কর্মচারীদের ৩৩টি পদ শূন্য রয়েছে।
২৫০ শয্যা হাসপাতালটি পূর্নাঙ্গভাবে চালু করতে চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ ২৬৭ টি পদের মধ্যে ১০২টি পদ শূন্য রয়েছে। অথচ প্রতিদিন গড়ে তিনশ থেকে চারশত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে। সেখানে নেই পর্যাপ্ত পরিমান বেড। শিশু ওয়ার্ডের একটি বেডে দুই জন থেকে চারজন করে শিশু রোগী থাকছে। এতে করে উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশু রোগীরা। স্বজনরা থাকতে পারছে না রোগীদের পাশে। বাধ্য হয়ে অনেকেই হাসপাতালের ফ্লোরে বিছানা পেতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব দেখা গেছে হাসপাতালের মেঝে ও টয়লেটে। রোগীদের উপরে উঠার জন্য রয়েছে দুটি নিন্ম মানের লিফট। মাঝে মধ্যেই লিফটে আটকা পড়ে থাকেন রোগী ও স্বজনরা।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন ভর্তি রোগী ও রোগীর স্বজনরা জানান, সদর হাসপাতাল থেকে আমাদের একটা ওষুধ দেয়া হয় না। সব ওষুধ বাহিরের দোকান থেকে কিনে এনে দিতে হয়। গরীব মানুষ আসে কিছুটা ছাড়ের জন্য। অর্ধেক ওষুধ দিলেও আমাদের উপকার হয়। ডাক্তাররা সঠিকভাবে রিপোর্ট দেখে না। রোগীর সীট খুব সংকট। একটি সীটে দুইজন থেকে চারজন রোগী থাকে। সীটের পাশে দাড়িয়ে থাকার জায়গাও পাইনা। টয়লেটও খুব নোংরা। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এ হাসপাতালের দিকে নজর দেয়া উচিৎ।
মাদারীপুর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শরীফুল আবেদীন কমল বলেন, হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন সাড়ে তিনশ থেকে চারশ রোগী ভর্তি থাকে। আমাদের অর্থ বছর এখন শেষ পর্যায়ে। এ জন্য কিছুটা ওষুধের সংকট আছে। নতুন অর্থ বছরে এ সংকট কেটে যাবে। তখন নতুন করে টেন্ডারের মাধ্যমে ওষুধ ক্রয় করা হবে। চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য সমস্যার কথা আমরা মন্ত্রনালয়ে জানিয়েছি। আশকরি খুব শীঘ্রই সকল সমস্যা কেটে যাবে।