
সংগৃহীত ছবি
উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান। তবে তেহরান জানিয়েছে, এই প্রস্তাব পর্যালোচনার অর্থ ওয়াশিংটনের সাথে সরাসরি কোনো আলোচনায় বসা বা মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত সংঘাত প্রশমনে আপস করা নয়।
গতকাল বুধবার (২৫ মার্চ) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
আরাকচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মার্কিন প্রস্তাবের আদান-প্রদান মানেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি আলোচনা নয়।
তিনি জানান, মার্কিন বার্তায় কিছু নির্দিষ্ট ‘আইডিয়া’ তুলে ধরা হয়েছে যা বর্তমানে ইরানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পর্যালোচিত হচ্ছে। যদি প্রয়োজন মনে হয়, তবেই তেহরান তাদের চূড়ান্ত অবস্থান ঘোষণা করবে। এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনার সম্ভাবনাকে প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।
এদিকে ছয়টি আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছে যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে অবশ্যই লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অন্যথায় কোনো একক চুক্তি কার্যকর হবে না।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনের এক অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন, ইরানি নেতারা চুক্তি করতে অত্যন্ত মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সূত্র অনুযায়ী, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো ট্রাম্পের ১৫ দফা প্রস্তাবে ইরানের জন্য অত্যন্ত কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অপসারণ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করা, ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম সীমিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন বন্ধ করা।
তবে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। উল্টো হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান সামরিক পরাজয় স্বীকার না করলে তাদের ওপর আরও ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আওতায় তারা ইরানের ভেতরে ১০ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছেন।
তিনি আরও জানান, ইরানের বড় নৌযানগুলোর ৯২ শতাংশই ধ্বংস করা হয়েছে এবং তাদের ড্রোন ও মিসাইল উৎপাদন সক্ষমতা দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। তা সত্ত্বেও আকাশপথে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, বুধবারও তেহরানের আবাসিক এলাকায় এবং জাহাজ নির্মাণ কারখানায় ইসরায়েলি বিমান হামলা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
