সেই রাতে আর বেতন পাওয়া হয়নি। আব্বাকে নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় মধ্যরাতে ঘুমাতে গেলাম। পরদিন ভোরে কাজিন মোটরসাইকেলে এসে ঘুম ভাঙালো। কিছু না বলেই আমাকে নিয়ে ছুটলো। গ্রামের কাছাকাছি যেতেই মাইকিং থেকে জানলাম, গতরাতে আব্বা মারা গেছেন।
শুনলাম, আব্বা আমাকে দেখার জন্য ছটফট করছিলেন। মা-বোন-ছোট ভাই সবাই আমাকে জড়িয়ে কাঁদছে হাউমাউ করে। আমার চোখে পানি নেই। অনেকে ভাবল, আমি পাষাণ।
টানা ছয় মাস ১০-১২ ঘণ্টা ফ্রি খাটাখাটির পর ‘সংবাদ’-এ নিয়োগ। বেতন প্রত্যাশিত না হলেও চাপ-টেনশন কমাতে রাতের ‘আজ ও আগামীকাল’ ছাড়লাম। এর কয়েক মাস পর আরও ভালো কাজ করার জন্য জরুরি হয়ে পড়ল ল্যাপটপ কেনা।
‘সংবাদ’ থেকেও ডাক এলো। তবে ব্যাগ-ব্যাগেজ নিয়ে ‘চল্লিশ প্লাসে’ যখন ঢাকায় পৌঁছলাম, ‘সংবাদ’-এর বেতনের অফারে চোখে অন্ধকার দেখলাম।
কতদিন পর বুঝেছিলাম, দূর থেকে যাদের আমরা ‘বটবৃক্ষ’ ভাবি, তারা আসলে একেকটা ‘ব্যাঙের ছাতা’। ঢাকার পথ সেই যে বেঁকে গেল, আর সোজা হয়ে ওঠেনি।
দক্ষতা, যোগ্যতা নয়, এখানে কানেকশনই বড়। নিউজের লক্ষ্য সাধারণ মানুষ নয়, অর্থ আর ক্ষমতা। মন্ত্রী, এমপি, আমলাদের ঝলসানো আলোয় চাপা পড়ে মাঝারি-প্রান্তিক সাংবাদিকদের বিষণ্ণতায় ভরা গল্পগুলো। (চলবে)
(সুইসাইড নোটের জীবন: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬। সেন্ট্রাল রোড, ঢাকা)