সিলেট নগর ভবন প্রাঙ্গণে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধী ও গুণীজনদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, সিলেট আধ্যাত্মিকতা, সম্প্রীতি ও কৃষ্টির এক মহিমান্বিত ভূমি। সব ধরনের ভেদাভেদ ভুলে দেশের চলমান উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ধারাকে সুসংহত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
নাগরিক সংবর্ধনায় সিলেটের সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, পেশাজীবী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের উপস্থিতিতে নগর ভবন প্রাঙ্গণ মিলনমেলায় পরিণত হয়।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে বিশেষ বিমানযোগে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি সিলেট সার্কিট হাউসে যান। সেখানে বেলা ১২টার দিকে তাঁকে সম্মানসূচক গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে রাষ্ট্রপতি ঐতিহ্য অনুযায়ী হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। জিয়ারত শেষে তিনি সার্কিট হাউসে ফিরে যান এবং বিকেলে নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন।
অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শীতল পাটি, চা গাছের সুদৃশ্য রেপ্লিকা ও বিশ্বখ্যাত সিলেটের চা উপহার দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী ও ফার্স্ট লেডির জন্য সিসিকের পক্ষ থেকে বিশেষ মণিপুরী শাড়ি উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপতির সফর ও নাগরিক সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে নগর ভবন ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপর থাকতে দেখা যায়।