জামালপুরের মাদারগঞ্জে পল্লীবিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগে চোর চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে চুরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের কাছ থেকে চুরির বেশ কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, এই চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে এবং ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে অভিযুক্ত রাসেল মিয়ার বিষয়ে মাদারগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কোনো ব্যক্তির অপকর্মের দায় সংগঠন বহন করবে না। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা যায়, মাদারগঞ্জে গত ৬৫ দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ২৬টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৭ লাখ টাকা।
পল্লীবিদ্যুতের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ট্রান্সফরমার প্রথমবার চুরি হলে নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেক টাকা এবং দ্বিতীয়বার চুরি হলে পুরো দামই গ্রাহকদের পরিশোধ করতে হয়। আকস্মিক এই অর্থ জোগাড় করা দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ে।
মাদারগঞ্জ পৌরসভার গাবেরগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পে গত ২৯ আগস্ট ট্রান্সফরমার চুরির পর অর্ধেক টাকা জোগাড় করতে না পারায় অন্তত ৪০টি পরিবার এখনো বিদ্যুৎহীন রয়েছে। একই চিত্র জোড়খালী ইউনিয়নের চরগোলাবাড়ী এলাকারও।
জামালপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন জানান, চলতি বছরে মাদারগঞ্জে মোট ২৮টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে, যার বড় অংশই ঘটেছে গত দুই মাসে। গত ২ জুলাই থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ২৬টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৬টি, আগস্টে ১৭টি এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম ৫ দিনে ৩টি চুরি হয়। চোর চক্রটি ট্রান্সফরমার ভেঙে ভেতরে থাকা মূল্যবান তামার তার ও কয়েল ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে এই চুরি করে আসছিল।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ৫ কেভিএ ক্ষমতার ট্রান্সফরমারের দাম ৬৩ হাজার ৩৪৫ টাকা, ১০ কেভিএ ৯০ হাজার ১২৫ টাকা, ১৫ কেভিএ ১ লাখ ২ হাজার ৯৮০ টাকা এবং ২৫ কেভিএ ট্রান্সফরমারের দাম প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮০০ টাকা। লোডশেডিংয়ের সময় নিশ্চিত হয়েই চোরেরা কয়েল খুলে নিয়ে যায়। প্রতিটি ঘটনার পরই থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন চৌধুরী বলেন, চুরি প্রতিরোধে পুলিশ, এলাকাবাসী ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ শুরু করে। এর ফলেই এই চোর চক্রকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।