সোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলা
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. দেশজুড়ে
  9. প্রবাস
  10. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা

সিরাজগঞ্জে বালু স্তূপের চাপা পড়েছে কৃষকের স্বপ্ন


সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৩:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিরাজগঞ্জে বালু স্তূপের চাপা পড়েছে কৃষকের স্বপ্ন। বছর খানেক আগেও নদীর পাড়ের আবাদি জমিতে চোখ জুড়িয়ে যেত ভুট্টা, বেগুনসহ নানান ধরণের ফসলের চাষ হতো। জীবিকা সন্ধানে জমিগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করতো কৃষকেরা। জমিতে ফসল ফলিয়ে ঘুরতো তাদের জীবিকার চাকা। কিন্তু সেই জমিতে এখন কৃষকের ব্যস্ততা নেই, গজিয়েছে আগাছা।

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ঝাটিবেলাই এলাকায় ফুলজোর নদী সংলগ্ন আবাদি জমিতে নদী খননের বালু স্তূপ করে রাখার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্যমতে নদী খননের বালুতে জমি নয়, যেন চাপা পড়েছে তাদের স্বপ্ন।

কৃষক সোবাহান আলী, শহিদুল জানান, কামারখন্দ উপজেলার ঝাটিবেলাই মৌজায় ফুলজোড় নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য নদী খনন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। নদী থেকে উত্তোলিত বালু স্তুপ করে রাখা হয় নদী পারের ব্যক্তি মালিকানা আবাদি জমির উপর। পরে ওই স্তূপ করা বালু স্থানীয় ইজারাদার সরকারের কাছ থেকে ইজারা নেন।

তবে প্রশাসন ও বালু মহলের ইজারাদারের মধ্যে চলমান আইনি জটিলতার কারণে বর্তমানে কৃষিজমির ওপর থাকা বালু সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে জমির ওপর বালু পড়ে থাকায় কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না। ফলে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন এই চরের কৃষকরা।

অন্যদিকে ইজারাদার বলছেন, আবাদি জমির ওপর স্তূপ করে রাখা বালু সহজ পদ্ধতিতে দ্রুত সরিয়ে নিতে চান ইজারাদার।

এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও ইজারাদারের মধ্যে চলমান আইনি জটিলতার কারণে বালু সরানোর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিঘা বিঘা জমি চাষাবাদের বাইরে রয়েছে। এতে একদিকে জমির মালিক ও কৃষকরা যেমন ক্ষতির মুখে পড়েছে, অপরদিকে ইজারাদার বালু সরিয়ে নিতে না পারায় তারাও লোকসানে রয়েছেন।

কৃষকদের তথ্য মতে, স্তূপ করা বালুর নিচে অন্তত ১০ জন কৃষকের প্রায় ১৫-২০ বিঘা জমি রয়েছে। এসব আবাদি জমি থেকে বছরে পেয়ারা ২৫০ থেকে ৩০০ মণ, ভুট্টা ৭০ থেকে ১০০ মণ এবং বেগুনসহ অন্যান্য ফসল ৫০ থেকে ৭০ মণ উৎপাদন হতো। কিন্তু জমিগুলো বালুর নিচে পড়ে থাকায় আবাদ বন্ধ রয়েছে অন্তত দুই বছর ধরে। আর আবাদ বন্ধ থাকায় উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না ফসলগুলো। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষকরা।

জমির মালিক কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার জমির ওপর দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করে রাখা হয়েছে। ফলে জমিতে কিছু করতে পারছি না। স্তূপ করা বালু সরিয়ে ফেললে আমরা কৃষিজমি কাজে লাগাতে পারব।

আরেক জমির মালিক কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, সেখানে যে বালু স্তূপ করে রাখা আছে, সেই বালু ইজারাদার কিনেছে ঠিক। তবে বালুগুলো অন্যত্র পরিবহন করে নেওয়াটা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপরও দ্রুত বালু সরিয়ে নিলে আমাদের জন্য ভালো হবে।

ইজারাদার মো. আতিকুর রহমান সোহাগ বলেন, সাধারণ মানুষের ক্ষতি হোক, আমরা সেটাও চাই না। কৃষিজমি থেকে বালুগুলো তুলে নিতে চাই আমরা। তবে আইনি জটিলতার কারণে এখন বালু সরাতে পারছি না। তিনি আরও বলেন, বালুগুলো সরিয়ে নিলে কৃষকেরা জমিতে আবাদ করতে পারবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ফরিদ হোসাইন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ইজারাদারদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. বিপাশা হোসাইন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ভূমি থেকে বালু সরানোর ব্যাপারে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু গভীর রাতে গোপনে কাজ করার কারণে তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। এব্যাপারে ইতিমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাছাড়াও কোর্টে একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

📰 ঢাকা ইনফো২৪

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, প্রবাসীদের তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

আরও পড়ুন
`);w.document.close();setTimeout(function () { w.focus(); w.print(); }, 500);});});