ভোলার নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকালে নাজিউর রহমান কলেজ প্রাঙ্গণে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
নাজিউর রহমান কলেজের শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সড়ক অবরোধ করা হয়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেয় কবি মোজাম্মেল হক মহিলা কলেজ, পরাণগঞ্জ হালিমা খাতুন মাধ্যমিক মহিলা কলেজ, পরাণগঞ্জ হাইস্কুল এবং পরাণগঞ্জ দাখিল মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এ সময় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান বক্তারা।
গত রোববার ভোলার মনপুরা উপজেলা মসজিদে এশার নামাজ আদায় করতে যান নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। সেখানে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তার ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়।
কর্মসূচিতে কাচিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ইউছুফ, পরাণগঞ্জ কবি মোজাম্মেল হক মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল কাশেমসহ স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও ছাত্রনেতারা বক্তব্য রাখেন।
এ বিষয়ে ভোলা নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন মিয়া জানান, অসুস্থ বাবাকে দেখতে পরিবার নিয়ে মনপুরা আসি। মডেল মসজিদে নামাজ শেষে হাদিস তালিমের পর আমার ওপর যুবদল-স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতাকর্মীরা হামলা করেন। উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. কামাল উদ্দিনের নির্দেশে আমার ওপর এই হামলা চালানো হয়।
অপরদিকে, রোববার রাতে মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে অধ্যক্ষের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মোল্লা ও সদস্য সচিব হাফেজ আবদুর রহিম। তারা জানান, মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ থাকাকালীন মো. মহিউদ্দিন মিয়া অন্যায়ভাবে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সেলিমকে চাকরিচ্যুত করেন। সেই কারণে সেলিম অধ্যক্ষের ওপর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে এ ঘটনা ঘটায়। এতে যুবদল-স্বেচ্ছাসেবকদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নয়। অধ্যক্ষের এমন অভিযোগের নিন্দাও জানান তারা।
মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের চাকরিচ্যুত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সেলিম বলেন, অবৈধভাবে কেনো আমাকে চাকরিচ্যুত করেছে সেই বিষয়ে জানতে সাবেক অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং ওনি ওল্টো আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমার ওপর হাত তোলেন।
এই বিষয়ে মনপুরা থানার ওসি মাজাহারুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।