মঙ্গলবার , ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলা
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. দেশজুড়ে
  9. প্রবাস
  10. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা

পৌরসভায় নেই অডিট আপত্তির নথি, নির্বাহী প্রকৌশলীকে জড়িয়ে অপপ্রচার


সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার উন্নয়নকাজে ৬১ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগে অডিট আপত্তি হয়েছে কিন্তু এক বছরেও নেওয়া হয়নি ব্যবস্থা এমন দাবিতে সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও একটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ কম করে বিল উত্তোলন, নকশাবহির্ভূত নির্মাণ ও ভুয়া প্রাক্কলনের মতো অভিযোগ তোলা হয়।

গত ২৮ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের অডিট রিপোর্টের বরাত দিয়ে বলা হয়, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রতিবেদনে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রকল্প, স্থান, ওয়ার্ড কিংবা অডিট আপত্তির স্মারক নম্বর উল্লেখ করা হয়নি।

প্রতিবেদনে ৬৫ মিটার ড্রেন নির্মাণের পরিবর্তে ৫৫ মিটার নির্মাণ করে অতিরিক্ত ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগও করা হয়। কিন্তু কোন ওয়ার্ডে, কোন প্রকল্পের আওতায় এবং কোন সময়ে ওই ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে সে তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

এ বিষয়ে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে ৬৫ মিটারের নির্দিষ্ট কোনো ড্রেন প্রকল্পের তথ্য তাঁদের জানা নেই। তাঁর ভাষ্য, মাঠপর্যায়ে জনগণের চাহিদা ও বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে কোনো কোনো কাজের দৈর্ঘ্যে কিছুটা কমবেশি হতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের তথ্য ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ বিভ্রান্তিকর।

এছাড়া প্রতিবেদনে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ১৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকার স্লাব নির্মাণ এবং পুরোনো সড়কের নিচে সলিং দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। তবে পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জুয়েল হক বলেন, অভিযোগে কোনো ওয়ার্ড, প্রকল্প বা নির্দিষ্ট কাজের স্থান উল্লেখ করা হয়নি। শুধু আনুমানিক ভাউচারের কথা বলা হয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমান নির্মাণকাজের প্রক্রিয়া ও কারিগরি তদারকির কারণে এভাবে অনিয়ম করার সুযোগ নেই। ফলে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ বাস্তবসম্মত নয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে জরুরি মেরামতকাজে প্রায় ৩১ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগও করা হয়েছে। এ বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন, পৌরসভার দৈনন্দিন প্রয়োজন ও জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশাসক বা মেয়রের অনুমোদন নিয়ে নিয়ম মেনে ক্ষুদ্র ভাউচারের মাধ্যমে এসব কাজ করা হয়। তাঁর দাবি, এ ধরনের কাজকে টেন্ডারভুক্ত নিয়মিত উন্নয়নকাজের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিভিন্ন অনিয়মের জন্য পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীকে এককভাবে দায়ী করা হলেও সরকারি উন্নয়নকাজের প্রচলিত প্রক্রিয়ায় একাধিক পর্যায়ের কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা থাকে। পৌরসভার প্রকৌশল শাখার কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাজের পরিমাণ ও বাস্তবায়নের হিসাব প্রথমে মাঠপর্যায়ে মেজারমেন্ট বুকে (এমবি) নথিভুক্ত করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী তা যাচাই-বাছাই করেন। পরবর্তী ধাপে নথি নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে যায় এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা মেয়র বা প্রশাসকের কাছে উপস্থাপন করা হয়। ফলে কোনো উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে শুধু একজন কর্মকর্তাকে দায়ী করার আগে সংশ্লিষ্ট পুরো প্রক্রিয়া ও দায়িত্ব বণ্টন যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন পৌরসভার কর্মকর্তারা।

অভিযোগগুলোর মূল ভিত্তি হিসেবে যে অডিট আপত্তির কথা বলা হয়েছে, তার সত্যতা যাচাই করতে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি নতুন দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন। এ ধরনের অডিট আপত্তির বিষয়ে তাঁর জানা নেই। বিষয়টি সম্পর্কে পূর্বের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব ভালো বলতে পারবেন।

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার পূর্বে দায়িত্বে থাকা পৌর নিবার্হী কর্মকর্তা ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা হাসান জাকিরের কাছে অডিট আপত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এধরনের অডিট আপত্তির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, দাপ্তরিক নিয়ম অনুযায়ী অডিট আপত্তির চিঠি পৌরসভায় এলে তা হিসাব শাখায় নিবন্ধিত হওয়ার কথা।

পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম (মস্তান) বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থানীয় সরকার অডিট অধিদপ্তর থেকে যেসব অডিট আপত্তি এসেছে সেগুলো নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করে জবাব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকৌশল শাখা-সংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা অডিট আপত্তির কোনো চিঠি তাঁরা পাননি। পূর্বের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেও এ ধরনের চিঠির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

একই তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন অডিট অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ তিনি বলেন, এ বছর তিনি কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় অডিট করেছেন। তবে সংবাদে প্রকাশিত অডিট আপত্তিটি কোথা থেকে এসেছে তা তাঁর জানা নেই।

প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোর মধ্যে রূপালী বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম রাজন বলেন, "আমি অডিট আপত্তির নিউজটি আমার সহকর্মীর কাছ থেকে পেয়ে করেছি। বিস্তারিত তিনি ভালো বলতে পারবেন।"

অভিযোগের বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ৬১ লাখ টাকার অডিট আপত্তির কথা বলে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ধরনের কোনো অডিট আপত্তির কাগজপত্র তাঁর দপ্তরে আসেনি এবং তিনি খুঁজেও পাননি।

তিনি বলেন, প্রতিবেদনে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে ২০২৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি যোগদান করেছেন। ফলে এর আগের সময়ের অডিট আপত্তির সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রশ্নই আসে না।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত কর্মপরিধি অনুযায়ী প্রত্যেক পদের আলাদা দায়িত্ব রয়েছে। কোনো অডিট আপত্তি থাকলে নির্দিষ্ট নথি বা প্রকল্পের তথ্য ছাড়া ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা উচিত নয়। একটি স্বার্থান্বেষী মহল পৌরসভার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করতে সংবাদমাধ্যমকে ভুল তথ্য দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

📰 ঢাকা ইনফো২৪

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, প্রবাসীদের তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

আরও পড়ুন
`);w.document.close();setTimeout(function () { w.focus(); w.print(); }, 500);});});