কেওয়াটখালী স্টিল আর্চ সেতু
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাইপাস মোড় থেকে চায়না মোড় পর্যন্ত ৬ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছে কেওয়াটখালী সেতু। ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত মূল সেতুটি হবে পিলারবিহীন স্টিল আর্চের। এর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ১০০ মিটার। পুরো প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৩৬৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
প্রকল্পের শুরু থেকেই নকশা, ভূমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি স্থানান্তরসহ নানা জটিলতা দেখা দেয়। বিদ্যুতের খুঁটি, গ্যাসলাইন ও অন্যান্য সেবা সংযোগ সরাতেও সময় লেগেছে। নির্ধারিত সময়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পুরো কর্মস্থল বুঝিয়ে দিতে না পারায় নির্মাণকাজের গতিও কিছুটা কমে যায়।
এসব জটিলতার কারণে ঋণচুক্তি ও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাড়তি সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
সওজের কেওয়াটখালী সেতু প্রকল্পের পরিচালক মো. দিদারুল আলম জানান, সেতুর সঙ্গে ছয় লেনের সড়ক, ২৫০ মিটার দীর্ঘ রেলওয়ে ওভারপাস, টোল প্লাজা, বিশ্রামাগার, ওয়াচ টাওয়ার ও একটি দৃষ্টিনন্দন পার্ক থাকবে। ছয় লেনের মধ্যে চারটি ভারী যানবাহনের জন্য এবং দুটি মোটরসাইকেল ও হালকা যানবাহনের জন্য রাখা হবে।
তবে দিঘারকান্দা বাইপাস থেকে কেওয়াটখালী পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ রয়েছে। তাদের কেউ কেউ জমির মূল্য পেলেও স্থাপনার ক্ষতিপূরণ পাননি বলে দাবি করেছেন। এ ছাড়া ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের অর্থ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।
রহমতপুর সেতু
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের চতুর্থ প্যাকেজের আওতায় ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতুর পাশাপাশি রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। মূল সেতুতে ৩৩০ মিটার স্টিল নেটওয়ার্ক ট্রাসের তিনটি স্প্যান, ২৩টি পিসি গার্ডার, ৭৮৫ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক, আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল, স্ট্রিট লাইট, ফুটপাত, ড্রেন ও ইন্টারসেকশন থাকবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খ.মো. শরীফুল আলম জানান, রহমতপুর সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ২০২৭ সালের জুনে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতাও এরই মধ্যে শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি।
সেতু ঘিরে চরাঞ্চলের মানুষের আশা
দুটি সেতু নির্মাণে আশাবাদী ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। তাদের ভাষ্য, সেতু না থাকায় নৌকার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। জরুরি রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদেরও স্কুল-কলেজে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হয়।
তবে কেওয়াটখালী স্টিল আর্চ সেতুর সংযোগ সড়কের নকশা ও সেতুর মুখ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন নাগরিক নেতাদের কেউ কেউ।
সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন বলেন, সংযোগ সড়ক চায়না মোড়ে গিয়ে মিশলে বর্তমানে ব্রীজের মোড়ে যে যানজট হচ্ছে, ভবিষ্যতে তা চায়না মোড় ও শম্ভুগঞ্জ এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। তার মতে, শুধু বড় সেতু নির্মাণ করলেই যানজটের স্থায়ী সমাধান হবে না; অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও নগর ব্যবস্থাপনায়ও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।