ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬-এর সংশোধনী গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ২৫ হাজার এবং সদস্য প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ এবং সদস্য প্রার্থীর ২ লাখ টাকা করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সংশোধিত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এতে স্বাক্ষর করেন।
সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ২৫ হাজার এবং সদস্য প্রার্থীকে ৫ হাজার টাকা ট্রেজারি চালান, পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুকূলে জামা দিতে হবে। একই প্রার্থীর পক্ষে একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করা হলেও একাধিক জামানত দিতে হবে না।
কোনও প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ পেলে জামানত ফেরত পাবেন। এর কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে সরকারি কোষাগারে জমা হবে। জামানত ফেরত পাওয়ার যোগ্য প্রার্থী ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের ছয় মাসের মধ্যে তা গ্রহণ না করলে ওই অর্থও সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
আগে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ছিল ৫ হাজার এবং সদস্য প্রার্থীর ১ হাজার টাকা। অর্থাৎ উভয় পদের জামানত পাঁচ গুণ বাড়ানো হয়েছে।
সংশোধীত বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ এবং সদস্য প্রার্থীর ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যয়ের সীমা ছিল ৫ লাখ এবং সদস্য প্রার্থীর ক্ষেত্রে ছিল ২ লাখ টাকা।
চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়ের জন্য তফসিলি ব্যাংকে আলাদা হিসাব খুলতে হবে। নির্বাচনি ব্যয়ের সব অর্থ ওই হিসাব থেকে পরিশোধ করতে হবে। কোনও খাতে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয় হলে চেকের মাধ্যমে তা পরিশোধ করতে হবে।
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে কমিশন লিখিত আদেশে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। এ আদেশ প্রার্থী, তার নির্বাচনি এজেন্ট ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে এবং সরকারি গেজেটে প্রকাশ করতে হবে।
কোনও ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনও অপকর্মের কারণে চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে কমিশন ওই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে। অনুসন্ধানের পর প্রয়োজন মনে করলে ওই কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশও দিতে পারবে।
দুই বা ততোধিক প্রার্থী সর্বোচ্চ সমান ভোট পেলে লটারির পরিবর্তে পুনঃভোট অনুষ্ঠিত হবে। সর্বোচ্চ সমান ভোট পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে পুনঃভোটের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেবে কমিশন।
দৃষ্টি, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা অন্য কোনও কারণে ভোট দিতে সহায়তার প্রয়োজন হলে ভোটারকে সহযোগিতার জন্য কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী একজন ব্যক্তিকে সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি দিতে পারবেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা।
ভোটার নিজে ব্যালট পেপারে চিহ্ন দিতে না পারলে তার নির্দেশনা অনুযায়ী সহায়তাকারী তা করতে পারবেন। তবে সহায়তাকারী প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হতে পারবেন না। তাকে ভোটারের পছন্দের গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে।
নির্বাচনি দায়িত্ব পালনরত ব্যক্তি, কমিশন অনুমোদিত গণমাধ্যম প্রতিনিধি বা পর্যবেক্ষককে হুমকি, ভয়ভীতি, আঘাত বা বলপ্রয়োগ করে বাধা দেওয়া কিংবা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এছাড়া ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, কোনও প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে বিরত রাখা বা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করাও অপরাধ। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারবে কমিশন।
সংশোধিত বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনও প্রার্থী, নির্বাচনি এজেন্ট বা পোলিং এজেন্ট নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না থাকলেও তাদের অনুপস্থিতির কারণে আইনানুগভাবে সম্পন্ন কার্যক্রম অবৈধ হবে না। তবে রিটার্নিং বা প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিতের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে এবং অনুপস্থিতির কারণ লিখিতভাবে কমিশনকে জানাতে হবে।
এ ছাড়া কিছু করণিক ভুল, প্রতীকের তালিকা থেকে দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়া এবং মনোনয়নপত্রসহ নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফরমে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে।