পাবনায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৭৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। পরে আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগর পানুয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মজিবর রহমান (৭৪)। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভুক্তভোগী শিশুটি বাড়ির পাশের পাকা সড়কে একা খেলছিল। এ সময় পাশের রাউৎনাগধাপাড়া গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিন শাহর ছেলে মজিবর রহমান শিশুটিকে কোলে তুলে নেন। পরে তার শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হাত দেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে শিশুটি কান্না শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।
স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে মজিবর রহমানকে আটক করে মারধর করেন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
ফরিদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমান বলেন, মজিবর রহমানকে হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি।
ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আল হেলাল মাহমুদ বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। মামলার পর আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সম্প্রতি পাবনায় শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ রয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় শিশু কামরুন্নাহার কলি। নিখোঁজের সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া এলাকায় বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সেই ঘটনার পরপরই ফরিদপুরে শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।