বান্দরবানের রুমায় পাহাড়ি এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ছড়িয়ে দেওয়া এবং নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে কৃষি প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রুমা গ্যারিসনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়নের ব্যবস্থাপনায় ও ৩৮ ইস্ট বেঙ্গলের পরিচালনায় এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ৩৮ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেছারুল হক আশিফ। এ সময় রুমা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম ফরিদুল হক, ৩৮ ইস্ট বেঙ্গলের ক্যাপ্টেন ওআইসি মো. নাইমুর রেজা রাহাত, উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ভবতোষ চক্রবর্তী, স্থানীয় নার্সারি মালিক ক্যউসিং মার্মাসহ কৃষি উদ্যোক্তা ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম পর্যায়ে ১৮ জন প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে কার্যক্রমটি শুরু হয়েছে। প্রশিক্ষণে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি, কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার কৌশল এবং মাঠপর্যায়ে ব্যবহারিক কৃষিকাজের বিভিন্ন দিক শেখানো হচ্ছে।
আয়োজকেরা জানান, পাহাড়ি এলাকার কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে এ প্রশিক্ষণ সহায়ক হবে। তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে-কলমে কৃষিকাজ শেখানো হবে।
৩৮ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেছারুল হক আশিফ বলেন, ‘পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’
তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের মনোযোগ ও আন্তরিকতার সঙ্গে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত কৃষি প্রযুক্তির জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তারা যাতে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দিকনির্দেশনাও দেওয়া হবে।
রুমা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম ফরিদুল হক বলেন, সফল কৃষি উদ্যোক্তা হতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ। এ কর্মসূচিতে কৃষির বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি হাতে-কলমে কাজ শেখানো হবে। প্রশিক্ষণার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কৃষি বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, পাহাড়ি এলাকায় কৃষিকাজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় তারা কর্মসূচি নিয়ে আশাবাদী। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান নিজেদের কৃষিকাজে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বাড়ানো এবং স্বাবলম্বী হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।