মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা রংপুর অঞ্চলের পরিচালকের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে চাকরি ও এমপিওভুক্তিতে অনিয়মের অভিযোগসংক্রান্ত তথ্য ও নথি পাওয়ার দাবি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রংপুরের সহকারী কর্মকর্তা এ কে এম নুরে আলম সিক্কির নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান শেষে সাংবাদিকদের দুদকের সহকারী কর্মকর্তা এ কে এম নুরে আলম সিক্কি বলেন, নীলফামারীর সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক হাবিবুর রহমান এবং জলঢাকা মীলগঞ্জহাট ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ফৌজিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে অনিয়মের মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযান চালিয়ে কিছু তথ্য ও নথি পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সফটওয়্যারে যথাযথভাবে কাজ না করার বিষয়টি নজরে এসেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় হার্ড কপি সংরক্ষিত আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম আরও আধুনিক ও হালনাগাদ করা প্রয়োজন।
দুদক কর্মকর্তা জানান, অভিযানে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ঢাকায় কমিশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে।
এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা রংপুর অঞ্চলের সাবেক পরিচালক আমীর আলীর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন কলেজকে এমপিওভুক্ত করার অভিযোগের বিষয়েও কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বর্তমান পরিচালক গোলাম মাজেদের কাছে কার্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি সুস্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি বলে দুদক কর্মকর্তারা জানান। তবে গোলাম মাজেদ অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, তিনি কলেজে কর্মরত থাকাকালে এসব অভিযোগের কথা শুনেছেন।
গোলাম মাজেদ বলেন, “আমার অফিসে কোনো ত্রুটি নেই। এখানে অনিয়ম করার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের সফটওয়্যার কাজ করছে। আর হার্ড কপি সংরক্ষণ করার কোনো নিয়ম নেই।”
দুদক সূত্র জানায়, অভিযানে পাওয়া তথ্য ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।