মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষায় ৬০৫ কোটি ২৪ লাখ টাকার নদীতীর সংরক্ষণ ও ভাঙন রোধ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত একনেক সভায় মোট ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ভোলার নদীভাঙন রোধে নেওয়া এ প্রকল্পটি স্থানীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ৪ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৬ কিলোমিটার বাঁধ সংরক্ষণ এবং ৩ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার বাঁধের ঢাল সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ও পানি নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত আরও দুটি কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের কবলে থাকা এসব এলাকার মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডিভিশন-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ প্রকল্প অনুমোদনের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, নদীভাঙন রোধে এটি একটি বড় প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।
প্রকল্প অনুমোদনের খবরে শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়াসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের নদীভাঙন থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
প্রকল্প অনুমোদনে বিজেপির নেতাদের প্রতিক্রিয়া
ভোলার নদীভাঙন রোধে ৬০৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) নেতারা।
সভায় বিজেপির জেলা সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন বলেন, ভোলার নদীভাঙন রোধে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ কাজ করে যাচ্ছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নদীভাঙন রোধে এ প্রকল্পের অনুমোদন ভোলার মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।