জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় এবং তাদের কর্মসূচিগুলো বাংলাদেশের সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো (২০২৬-২০৩১)-এর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সঙ্গে আরও জোরালো অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
মঙ্গলবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াকের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। পরে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। অভিন্ন অগ্রাধিকার ও জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে জাতিসংঘের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখায় জাতিসংঘ কান্ট্রি টিমের নেতৃত্ব দেওয়া ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াকের প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী।
বৈঠকে সম্প্রতি শেষ হওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি। এ সময় জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের কার্যক্রম বাংলাদেশের সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিজ ভূমিতে দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে অব্যাহতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
হুমায়ুন কবির বলেন, সম্মানজনকভাবে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান।
জবাবে ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করেন। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে জাতিসংঘের কান্ট্রি টিম প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।