রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকটকের ‘অ্যালগো রিফ্রেশ’ নামের একটি ফিচার ব্যবহার করতে চাওয়া হাজারো ব্যবহারকারীকে পরীক্ষার অংশ করা হয়েছিল। ফিচারটির উদ্দেশ্য ছিল ব্যবহারকারীর ভিডিও সুপারিশের অ্যালগরিদম নতুন করে সাজানো, যাতে তারা অনাকাঙ্ক্ষিত বা সম্ভাব্য ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কিছু ব্যবহারকারী মনে করেছিলেন তারা ‘অ্যালগো রিফ্রেশ’ ফিচারটি চালু করেছেন। কিন্তু বাস্তবে তাদের অ্যাকাউন্টে ফিচারটির কার্যকর সংস্করণ দেওয়া হয়নি। ফলে তাদের ভিডিও ফিডে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি।
এই পরীক্ষায় শিশু ও কিশোররাও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ধরনের পরীক্ষা নিয়ে টিকটকের অভ্যন্তরেও আপত্তি উঠেছিল বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল ওয়েল-বিইং বিভাগের এক প্রোডাক্ট ম্যানেজার অভ্যন্তরীণ আলোচনায় প্লাসিবো গ্রুপ ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউইয়র্কের মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ‘অ্যালগো রিফ্রেশ’ ফিচারটি কীভাবে কাজ করে সে বিষয়েও ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করা হয়েছিল।
তবে টিকটক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, মামলায় ফিচারটির কার্যক্রমকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। টিকটকের এক মুখপাত্র বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত নতুন পণ্য ও ফিচার পরীক্ষা করে থাকে। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে বাস্তবে ফিচারগুলো কীভাবে কাজ করে এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতায় কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা বোঝার চেষ্টা করা হয়।
এর আগে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের দুই ডজনের বেশি অঙ্গরাজ্য টিকটকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এসব মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, শিশু-কিশোরদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে টিকটক এমন কিছু নকশা ও পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, যা তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
নিউইয়র্কের মামলায় আরও কিছু পরীক্ষার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে সুরক্ষা দেওয়ার ফিচার বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
টিকটক অবশ্য জানিয়েছে, শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তাকে তারা অগ্রাধিকার দেয়।