রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে পাবনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সাঁথিয়া থানার আমলি আদালতে মা ও ছেলের বক্তব্য শোনার পর বিরোধের সমাধান হয়। পরে সাগর তার মা মুন্নি খাতুনকে নিজের সঙ্গে বাড়িতে নিয়ে যান।
ভিডিওতে ছেলের এমন আচরণ দেখে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিষয়টি আদালতের নজরে এলে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে উদ্যোগ নেন। রোববার বিকেলে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমানকে মা ও ছেলেকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ওসি নিজের গাড়িতে করে তাদের আদালতে নিয়ে যান। শুনানিতে উভয়ের বক্তব্য শোনার পর সাগর মায়ের ভরণপোষণ ও দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে সম্মত হন।
সাগর আদালতে নিজের ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হওয়ার কথা জানান। ভবিষ্যতে মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ করবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি মা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান তিনি।
এদিকে সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে মাকে সঙ্গে নিয়ে সাঁথিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হন সাগর। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মামা ও খালু। ইউএনও, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সামনে মাকে সারা জীবন নিজের কাছে রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি। এ সময় মা-ছেলে একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান।
গ্রাম পুলিশ সাগর এর মা মুন্নি খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। আমি আমার ছেলেকে চেয়েছিলাম, অবশেষে তাকে ফিরে পেয়েছি। আমার আর কিছু চাওয়ার নেই। ছেলের সব ভুল মাফ করে দিয়েছি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছেলের কাছেই থাকতে চাই।’
সাগর হোসেন বলেন, ‘আদালতে গিয়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি। আগে আবেগের বশে অনেক কথা বলেছি। এখন আমি অনুতপ্ত। মাকে নিজের কাছে রেখে তার দেখাশোনা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতে চাই।’
জানা গেছে, মা- ছেলের এই বিরোধের সূত্রপাত এক দিনের নয়। স্বামী সিরাজুল ইসলাম ২০১৩ সালে মারা যাওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে জীবনযাপন করেন মুন্নি খাতুন। তখন ছেলে সাগর ও মেয়ে দুজনই সপ্তম শ্রেণিতে পড়তেন। স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গড়তে চেষ্টা করেন তিনি। একসময় মা-ছেলের সম্পর্ক ভালো থাকলেও পরবর্তী সময়ে দূরত্ব বাড়ে। তাদের আত্মীয়স্বজন জানান,, সাগরের বিয়ের পর বিরোধ আরও প্রকট হয়।
মুন্নি খাতুনের বোনের স্বামী মাসুদ আলম জানান, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছিল। নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতেও শালিস বসে। চেয়ারম্যান মুন্নি খাতুনের জন্য বিধবা ভাতার কার্ডের ব্যবস্থাও করেন। এরপরও মা-ছেলের বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এরই মধ্যে অসহায় মুন্নি খাতুনের পাশে দাঁড়ান পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও চিকিৎসক ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাঁথিয়া পৌরসদরে মুন্নির বোনের বাড়িতে গিয়ে তার ভরণপোষণ ও চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। আর্থিক সহায়তাও দেন।
Scale Your Newsportal
Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.
Scale Your Newsportal
Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.