ভোলার বোরহানউদ্দিনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নের জয়া বেড়িবাঁধের মাথা, জয়ার খাল ও নয়নের খাল মাছঘাটে প্রকাশ্যে মা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, দিন-রাত নির্বিঘ্নে চলছে ইলিশ শিকার ও বেচাকেনা। এতে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের নেওয়া কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন নদী ও সাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখা এবং ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা চলাকালেও বোরহানউদ্দিনের তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবাধে মা ইলিশ শিকার করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, নদীতে মাছ শিকারের পর জয়া বেড়িবাঁধের মাথা মাছঘাট, জয়ার খাল মাছঘাট ও নয়নের খাল মাছঘাটে এনে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে মা ইলিশ। এসব ঘাটে মাছ কেনাবেচা ও সরবরাহের সঙ্গে স্থানীয় কিছু অসাধু জেলে ও ব্যবসায়ী জড়িত বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্রের কারণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে বাধা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নির্বিচারে নিধন করা হলে ইলিশের প্রজনন ও ভবিষ্যৎ উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এতে দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের উদ্যোগও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় শুধু নদীতে অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; মাছঘাটগুলোতেও নজরদারি বাড়াতে হবে। তেঁতুলিয়া নদী এবং গঙ্গাপুর ইউনিয়নের উল্লেখিত মাছঘাটগুলোতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে দিন-রাত যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, কার্যকর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে মা ইলিশ নিধন বন্ধ করে ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করা হবে।
Scale Your Newsportal
Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.
Scale Your Newsportal
Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.