উপকূলীয় এলাকায় নারীর নেতৃত্ব বিকাশ, অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) খুলনার কয়রা উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংলাপে এসব দাবি জানানো হয়। বেসরকারি সংস্থা ইনিশিয়েটিভ ফর রাইট ভিউ (আইআরভি) এ সংলামের আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।
‘রিনিউড উইমেনস ভয়েস অ্যান্ড লিডারশিপ (আরডব্লিউভিএল) বাংলাদেশ প্রকল্প’-এর আওতায় আয়োজিত সংলাপে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
আইআরভির নির্বাহী প্রধান মেরিনা পারভীন জুথির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কে এম মফিজুর রহমান, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবুল আজাদ ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা আক্তার।
আইআরভির প্রোগ্রাম ম্যানেজার ছালমা পারভীনের সঞ্চালনায় সংলাপে বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মহসিন আলী, সাংবাদিক মো. রিয়াছাদ আলী ও কামাল হোসেন, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শান্তু অধিকারী, ইউপি সদস্য সরদার আবু হাসান এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রতিনিধি বিলকিস আক্তার।
এ ছাড়া আইআরভির নারী দলের সদস্য মমতাজ বেগম, কবিতা রানী, পল্লবী মণ্ডল ও দিপালিকা সরদার বক্তব্য দেন।
সংলাপে বক্তারা বলেন, নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে কিশোরী ও নারীদের মাসিক স্বাস্থ্যবিধি, মাতৃস্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের সবাইকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক সংকোচ ও কুসংস্কার দূর করা প্রয়োজন। নারীরা যাতে নির্দ্বিধায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন, সে জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি দপ্তর, জনপ্রতিনিধি, বেসরকারি সংস্থা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তারা মনে করেন, নারীর নেতৃত্ব বিকাশ, অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ানো গেলে উপকূলীয় নারীদের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
ক্যাপশন: খুলনার কয়রায় নারীর অধিকার, নেতৃত্ব বিকাশ ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবিতে আয়োজিত সংলাপে বক্তব্য দেন অংশগ্রহণকারীরা।
Scale Your Newsportal
Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.
Scale Your Newsportal
Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.