শুক্রবার , ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলা
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. দেশজুড়ে
  9. প্রবাস
  10. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা

অচল পায়ে ভর করেই চলছে নাসিমার জীবন যুদ্ধ


অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৫:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দেহের স্বাভাবিক সক্ষমতা আর নিরাপদ আবাসস্থল না থাকলেও অচল দু'পায়ে ভর করে হামাগুড়ি দিয়েই চলছে প্রকৃতিতে বেঁচে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা। কখনও অচল দু'পায়ে ভর করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করছেন নদীতে মৎস্য আহরণ, আবার কখনও শুঁটকি উৎপাদন প্রক্রিয়াজাতকরণে সামান্য পারিশ্রমিকে রোদে পুড়ে ঘাম ঝড়াচ্ছেন তিনি।

তবে পরিবারের ৬ সদস্যদের আহার যোগাতে ভিক্ষাবৃত্তি নয়, জীবন যুদ্ধে টিকে থাকতে প্রতিমুহূর্তেই করছেন লড়াই। আর দিনভর খাটুনির পর ক্লান্ত শরীর নিয়ে রাত্রিযাপন করেন পলিথিনে মোড়ানো একটি ঝুপড়ি ঘরে৷ এই ঝুপড়ীতেই দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে বসবাস করছেন ভূমিহীন এই পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর সদর ইউপির নজিবপুর গ্রামের ৪৪ বচর বয়সী নাসিমা বেগম। জন্ম লগ্ন থেকেই তার দু'পা অচল হওয়ায় শারীরিক ভাবে অক্ষম তিনি

ছোটবেলা থেকেই হামাগুড়ি দিয়ে চলাচল করেন এই নারী। প্রায় ত্রিশ বছর আগে জেলে পেশায় নিয়োজিত দরিদ্র ও ভূমিহীন পরিবারের মতিয়ার রহমানের সঙ্গে বিয়ে হয় তার।

কিন্তু অদম্য নাসিমা সহজলভ্য ভিক্ষাবৃত্তি বেছে না নিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে শুরু করেন নদীতে রেনু পোনা শিকার ও শুটকি উৎপাদন শ্রমিকের কাজ৷ তবে দীর্ঘ সংসার জীবনে তিন কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি। আর দুই মেয়েকে বিয়ে দিলেও এক মেয়ে নাতনি সহ তারাও থাকছেন একই পরিবারে। বর্তমানে পরিবারে দুই মেয়ে ও দুই নাতনী সহ এখন ৬ সদস্যদের নিয়ে টানাপোড়নের সংসার তার।

তবে ভূমিহীন এই পরিবারটির নিজস্ব কোন সম্পত্তি না থাকায় দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ওই গ্রামের এক টুকরো খাস জমিতে আবাসস্থল গড়ে বসবাস করে আসছেন তারা। আর সেখানেই পলিথিন ও ত্রিপলে মোড়ানো একটি ঝুপড়ি ঘরে চলছে তাদের মানবেতর জীবন যাপন। জীর্ণ দশার এই আবাসস্থলেই ঝড়, বৃষ্টি কিংবা প্লাবনে শঙ্কার মধ্যে দিয়ে কাটছে তাদের সংসার জীবন।

স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘ বছর ধরে সরকারি আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে দরিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী এই পরিবারটি। তাদের প্রয়োজন সরকারী বা বে-সরকারী হলেও একটি টেকসই আবাসস্থল।

একই এলাকার প্রতিবেশী রোকেয়া বেগম বলেন, এই গ্রামটিতে নাসিমার পরিবারের মতো অসহায় আর কোন পরিবার নেই। ওদের দৈনন্দিন করুন চিত্র হৃদয়ে নাড়িয়ে দেয়। তাই সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের সহযোগীতা কিংবা সরকারি ভাবে এই পরিবারকে সহায়তার দাবী জানান তিনি।

স্থানীয় শাহআলম জানান, নাসিমার ঘরটি বসবাসের উপযোগী নয়। ঝড়, বৃষ্টির দিনে ঝুপড়ী ঘরটা কাঁদা পানিতে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। তাই এই পরিবারটাকে সরকারি আবাসন দেওয়ার জন্য রাষ্ট্র প্রধানের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।

প্রতিবন্ধী নাসিমা বেগম জানান, অন্তত তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে তার। এদের মধ্যে এক মেয়ের এখনও বিয়ে হয়নি। আরেক মেয়েকে তার স্বামী খোঁজ খবর রাখে না। আর অপর মেয়ে স্বামীর বাড়িতে রয়েছে। বর্তমানে আমার ঘরে দুই মেয়ে, দুই নাতনী এবং আমি ও আমার স্বামী বসবাস করছি। বর্তমানে স্বামীও অসুস্থতার কারণে বেশ কিছুদিন যাবৎ মাছ শিকারে যেতে পারছেন না।

এখন আমি একাই পোনা শিকার ও শুটকি পরিষ্কার করার কাজ করে যে টাকা পাই তা দিয়ে কোন রকম সংসার চলছে।

তিনি বলেন, খাস জমিতে নির্মিত ঘরে পলিথিন দিয়ে ঢাকা, চালা নেই। ঝড় বৃষ্টির সময়ে পানিতে ঘর তলিয়ে যায়। তখন আমরা দুশ্চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারি না। তাই সরকারের কাছে একটি ঘরের আবেদন করছি। তবে এছাড়া যদি কোন হৃদয়বান মানুষ আমাকে সহযোগিতা করতে চায় তাহলে আমার ০১৭২৫১৪৪৬৭১ এই বিকাশ নম্বরে সহযোগিতা করতে পারে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান জানান, ভিক্ষাবৃত্তি করা প্রতিবন্ধীদের কাছে এক উজ্জল দষ্টান্ত নাসিমা৷ আমরা তাকে সহযোগিতার জন্য অবশ্যই চেষ্টা করব। পাশাপাশি সরকার থেকে ঘরের বরাদ্ধ পেলে তাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঘর প্রদানের কথা জানান তিনি।

Scale Your Newsportal

Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.

Scale Your Newsportal

Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

📰 ঢাকা ইনফো২৪

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, প্রবাসীদের তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

আরও পড়ুন
`);w.document.close();setTimeout(function () { w.focus(); w.print(); }, 500);});});